মহাসাগরের নিচে ‘বুমেরাং’ ভূমিকম্প!
রোমানচে ফ্র্যাকচার অঞ্চলের পুনর্গঠিত চিত্র-সিএনএন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২০ | ০৩:৪৬
আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে এমন এক ভূমিকম্প চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা দুইবার আঘাত হানতে পারে। বিরল এই ভূমিকম্পের নাম দেওয়া হয়েছে বুমেরাং ভূমিকম্প।
লন্ডনের সাদাম্পটন ইউনিভার্সিটি এবং ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে একটি দল ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি বুমেরাং ভূমিকম্প রেকর্ড করে। সম্প্রতি গবেষণাটি নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। খবর সিএনএনের।
বুমেরাং হলো এক খণ্ড বক্রাকৃতি কাঠ, যা অস্ত্র হিসেবে বা খেলার জন্য ব্যবহৃত হয়। পৃথিবীতে এলাকাভেদে বিভিন্ন আকার ও প্রকৃতির বুমেরাং দেখা যায়। তবে সবচেয়ে পরিচিত হলো ‘প্রত্যাবর্তনক্ষম বুমেরাং’, যা সঠিক পদ্ধতিতে নিক্ষেপ করা হলে উপবৃত্তাকার পথে প্রদক্ষিণ করে নিক্ষেপকারীর কাছেই ফিরে আসে।
বুমেরাং ভূমিকম্প নামকরণের মানে হলো, এই ভূমিকম্প যে গতির তরঙ্গে আসে, তার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত গতির তরঙ্গে নিজের উৎসমুখে ফিরে যায়। ফলে ক্ষয়ক্ষতি বিশাল হতে পারে। আবার এই বুমেরাং ভূমিকম্পের জেরে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা জারি করা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
২০১৬ সালের ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটি পানির নিচে হয়েছে। ফলে এর প্রতিক্রিয়া ঠিক মতো বোঝা যায়নি। কিন্তু যদি মাটিতে এই ধরনের ভূমিকম্প ঘটে, তবে ভূপৃষ্ঠ মারাত্মক ভাবে কেঁপে উঠবে এবং ক্ষতিও হবে অনেক বেশি।
২০১৬ সালে আটলান্টিকের নিচে ওই ভূমিকম্প সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বিজ্ঞানীরা পানির নিচে সিসমোমিটার ব্যবহার করেন। প্রধান গবেষক স্টিফেন হিকস বিভিন্ন টুইটে বলেন, বিচ্যুতির ফলে প্রথম যে ধাক্বাটি আসবে, তা প্রথমে পূর্বদিকে যেতে পারে, তারপর ফের ঘুরে এসে উৎসের মধ্য দিয়ে পশ্চিম দিকে যাবে। বুমেরাং নামের অস্ত্রটিও ছুড়ে দিলে অভীষ্ট স্থানে গিয়ে ফের উৎসের দিকে ফিরে আসে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, আরও কয়েকটি বুমেরাং ভূমিকম্পের খোঁজ পাওয়া গেলে এই সম্পর্কিত গবেষণা সমৃদ্ধ হবে এবং ভবিষ্যৎ ভূকম্পন সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া যেতে পারে।