ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সিকিমের নামচি টানেল দুর্ঘটনা: উদ্ধার অভিযান শেষ, মিলল ২৫ শ্রমিকের মরদেহ

সিকিমের নামচি টানেল দুর্ঘটনা: উদ্ধার অভিযান শেষ, মিলল ২৫ শ্রমিকের মরদেহ
×

ছবি-সংগৃহীত

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৩০

সিকিমের নামচি জেলার সমরদুঙ এলাকায় এনএইচপিসির তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট ধসে আটকে পড়াদের উদ্ধারে পরিচালিত অভিযান শেষ হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার নর্থ বেঙ্গলের আইজি সুকেশ জৈন জানান, উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ইতোমধ্যে সাতজনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত দুই দিনে উদ্ধারকারী দল শুধু উদ্ধারকাজই নয়, নিহতদের স্বজনদের ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা, মরদেহ শনাক্তকরণ, ময়নাতদন্ত এবং পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের মতো পুরো প্রক্রিয়াই সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করেছে। তাঁর ভাষায়, “আজ পুরো উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।”

এদিন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (গোলে)। তিনি উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত সোমবার প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ধস নামে। উদ্ধার অভিযানে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর পাশাপাশি ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) বিশেষ উদ্ধারকারী দল অংশ নেয়।

সিকিম সরকার নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও পাঞ্জাবের শ্রমিক রয়েছেন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় একাধিক রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

আরও পড়ুন

×