বিদেশিরা চাইছে টোকিওতে থাকতে, জাপানিরা চাইছে ছাড়তে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২০ | ০৩:৫৩
টোকিও এবং এর আশেপাশের তিনটি অঞ্চলের জনসংখ্যা ২০১৯ সালে আবার বেড়েছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, জাপানিরা টোকিও ছেড়ে শহরতলি কিংবা গ্রামের দিকে বেশি ছুটছে। অন্যদিকে সেখানে বাস করতে আগ্রহী হচ্ছেন বিদেশিরা। এর মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভিয়েতনামের নাগরিকের সংখ্যাই বেশি।
টোকিও জাপানের রাজধানী এবং প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ায় গত কয়েক দশক ধরে দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে উচ্চ শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের জন্য নাগরিকরা বড় এই শহরে ছুটেছেন। সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও টোকিওর অবস্থান বেশ দৃঢ়। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের
অনেকের ধারণা, এসব কারণেই বিদেশিরা টোকিও এবং এর পার্শ্ববর্তী কানগাওয়া, চিবা ও সাইতামা বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, আসন্ন অলিম্পিক গেমস বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের কর্মীদের জাপানে স্থানান্তর করায় নগরে বিদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে।
সরকারি এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর টোকিওতে জাপানিদের তুলনায় বেশি বিদেশি বসবাসের জন্য এসেছে। এর মধ্যে বিদেশিরা এসেছেন ৬৮ হাজার ১৬১ জন। অন্যদিকে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাপানি নাগরিক এসেছেন ৬৭ হাজার ৩০১ জন। ২০১২ সাল থেকে গত বছরের পসিংখ্যান অনুযায়ী জাপানিদের তুলনায় টোকিওতে বিদেশির আসা এটাই সর্বোচ্চ।
টোকিওতে আসা ব্রিটেনের নাগরিক লুইস গ্রিফিথস (২৬) বলেন, সম্পূর্ণ নতুন একটি সংস্কৃতি এবং দেশ সম্পর্কে জানতে আলাদা কোথাও যেতে চেয়েছিলাম। সেজন্যিই এখানে আসা।
গ্রিফিথস গত বছরের আগস্টে এক বছরের দীর্ঘ ছুটির ভিসায় টোকিও এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি শহরের মারুনুচি এলাকার একটি বারে কাজ করছেন। জাপানের বিদেশি কর্মীদের উপর করোনাভাইরাস প্রভাবের কারণে তিনি ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, এই শহরে কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ। এতে দেশটির সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, এই শহরে তিনি আরও কয়েক বছর থাকতে চান।
শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮৪ টি দেশ ও অঞ্চলের লোকেরা টোকিওকে নিজের বাড়ি মনে করে ববসবাস করছেন। তবে এ বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ অবস্থা পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, টোকিওবাসী জাপানিদের মধ্যে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে চলে যাচ্ছেন কিছুটা আরামে থাকতে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ টোকিওবাসী মনে করেন, শহরের ঝামেলা থেকে বেরিয়ে একটু দূরে থাকলে তাদের জীবন মান ভালো হবে। তাদের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অতিরিক্ত চাপপূর্ণ জীবন এবং উচ্চ জীবনযাত্রা ব্যয়ও আছে।