শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক
গাজায় ৭০০ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা, প্রতিশ্রুতি
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলা ও জোরপূর্বক স্থানান্তর গাজায় জাতিগত নিধনের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:০৩
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৈরি তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’-এর প্রথম বৈঠক ওয়াশিংটন ডিসিতে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে গাজা পুনর্গঠন ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পর্ষদভুক্ত ৯টি সদস্য দেশ। একই সঙ্গে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী নামে বিশেষ ফোর্স মোতায়েনেও রাজি হয়েছে পাঁচটি দেশ।
বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘শান্তি পর্ষদকে’ এক হাজার কোটি ডলার সহায়তা দেবে। যদিও এই অর্থ ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকালের জন্য এই শান্তি পর্ষদের সভাপতিত্ব করবে বলেও জানান ট্রাম্প।
তথাকথিত শান্তি পর্ষদে বিপুল পরিমাণ সহায়তা ও নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলছে, বড় প্রশ্ন হলো কীভাবে ট্রাম্পের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাগুলো গাজার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাবে। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও গাজায় যেখানে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি এখনও নাজুক। এ ছাড়া হামাসের নিরস্ত্রীকরণের মূল ইস্যুটিও এখনও সমাধান হয়নি। ফলে গাজা পুনর্গঠন এবং সৈন্য মোতায়েন আসলে কখন এবং কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
শুধু তাই নয়, শান্তি রক্ষাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাওয়া ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘকে ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে পর্ষদের প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ কমানোর বিষয়ে খুব সামান্যই কথা বলেছেন। এদিকে ট্রাম্প চীন ও রাশিয়াকে তথাকথিত শান্তি পর্ষদে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, অনেক দেশ পর্ষদে আসার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমি চীন এবং রাশিয়াকে এখানে পেতে পছন্দ করব। তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গাজায় সৈন্য পাঠানোর জন্য সম্মত ৫ দেশ
ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া গাজায় সৈন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তথাকথিত শান্তি পর্ষদের বৈঠকে নবগঠিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সের (আইএসএফ) কমান্ডার জেনারেল জ্যাসপার জেফারস এই তথ্য জানান বলে খবর আলজাজিরার।
বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো জানান, গাজায় শান্তি কার্যক্রম সফল করতে তাঁর দেশ পরিকল্পিত বাহিনীতে আট হাজার সেনা পাঠাবে। কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ বলেছেন, তাঁর দেশও গাজায় মেডিকেল ইউনিটসহ অনির্দিষ্ট সংখ্যক সৈন্য পাঠাবে। অন্যদিকে মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা জানিয়েছেন, তাঁর দেশ গাজায় পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে প্রস্তুত।
হামাসকে নিরস্ত্র করার আগে গাজা পুনর্গঠন নয়: নেতানিয়াহু
গাজা পুনর্গঠনে ওয়াশিংটন ডিসিতে যখন তথাকথিত শান্তি পর্ষদের বৈঠক চলছে, তখন নতুন করে হুঙ্কার দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজায় কোনো পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন বলে খবর এএফপির।
ইসরায়েলি পদক্ষেপ পশ্চিম তীর ও গাজায় ‘জাতিগত নিধন’-এর শঙ্কা জাগিয়ে তুলছে: জাতিসংঘ
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং জোরপূর্বক স্থানান্তর গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধনের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয় বলে খবর এএফপির। প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বলছে, গাজায় সংঘাতের সময় ইসরায়েলের সামরিক আচরণ এবং অবরোধের সামগ্রিক প্রভাব এমন এক জীবনযাত্রার পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা গাজায় একটি গোষ্ঠী হিসেবে ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকার বিষয়টি ক্রমেই কষ্টকর ও বেমানান হয়ে পড়ছে।
- বিষয় :
- ফিলিস্তিন
- গাজা উপত্যকা
- শান্তি পর্ষদ
