ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কোণঠাসা সংখ্যালঘু মুসলিমরা

ভারতে ‘হিন্দুত্ববাদী’ উত্থানের নতুন শহর এখন সম্ভল

ভারতে ‘হিন্দুত্ববাদী’ উত্থানের নতুন শহর এখন সম্ভল
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৫:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

আদালতের নির্দেশে আইনজীবী যখন ১৬ শতকের এক ঐতিহাসিক মসজিদের সরু গলি দিয়ে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন চারপাশ ঘিরে নিরাপত্তারক্ষী আর সমর্থকদের ছিল ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। অন্যদিকে, মসজিদ রক্ষায় জড়ো হওয়া উত্তেজিত মুসলিম জনতা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই উত্তেজনা রূপ নিল প্রাণঘাতী সংঘাতে। পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস আর গুলিতে ঝরল অন্তত পাঁচটি প্রাণ। উত্তরপ্রদেশের সম্ভল শহরের এই চিত্রটি কেবল একটি দাঙ্গার গল্প নয়; বরং এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র থেকে ‘হিন্দু’ রাষ্ট্রে রূপান্তরের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ভারতের হিন্দু ডানপন্থিদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার প্রতীক এখন এই শহর। যেখানে প্রশাসন, পুলিশ এবং বিচার বিভাগ– সবই যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইতিহাস বনাম আইনি লড়াই
সম্ভলের শাহি জামে মসজিদটি মুসলিমদের কাছে তাদের পরিচয়ের এক দুর্গ। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের কাছে এটি ‘বিদেশি আগ্রাসনের’ এক ঘৃণ্য প্রতীক। তাদের দাবি, এই মসজিদটি একটি প্রাচীন মন্দিরের ওপর নির্মিত। এই প্রত্নতাত্ত্বিক দাবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ২০২৪ সালের শেষের দিকে আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন। উল্লেখ্য, এই জৈনের বাবা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের নেপথ্যে থাকা আইনি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

দমনে ‘বুলডোজার’ নীতি ও ডিজিটাল নজরদারি
সংঘর্ষের পর সম্ভলকে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট। পুলিশ প্রায় দুই হাজার ৭৫০ জন ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে, যা স্থানীয় মুসলিমদের কাছে এক নীরব হুমকি, যে কোনো সময় যে কোনো নাম সেখানে যুক্ত হতে পারে। নিহত ১৭ বছর বয়সী আয়ানের মা নাফিসা কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘এই ব্যবস্থা আর তাদের বপন করা ঘৃণা আমার ছেলেকে কেড়ে নিল।’ নিহতদের পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করতে তাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। 

সামাজিক মাধ্যমের ‘হিরো’ বনাম কোণঠাসা জনপদ
সম্ভলের এই বদলে যাওয়া বাস্তবতার সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখ হলেন পুলিশপ্রধান অনুজ চৌধুরী। কুস্তিগির থেকে পুলিশ হওয়া এই কর্মকর্তা ইনস্টাগ্রামে পেশিবহুল ছবি আর ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের ভিডিও দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। তিনি সরাসরিই বলেন, আগে মুসলিমদের তোষণ করার পুলিশি ব্যবস্থা ছিল, এখন আমরা শুধু আইন কার্যকর করছি।’

বদলে যাওয়া সম্ভল
সম্ভলের তিন লাখ জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশই মুসলিম। কিন্তু এখন তাদের ধর্মীয় উৎসব বা প্রার্থনা ব্যক্তিগত পরিসরেই সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে। মসজিদের ঠিক পাশেই তৈরি করা হয়েছে বিশাল এক পুলিশ স্টেশন, যার দেয়ালে আঁকা হয়েছে মহাভারতের রণক্ষেত্রের দৃশ্য।

আরও পড়ুন

×