এই মুহূর্তে ইরানের সামরিক নেতৃত্বে কে?
মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ১৭:৩৩ | আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ | ২১:৪৩
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পর দেশটির সামরিক নেতৃত্বে কে এখন মুখ্য ভূমিকা রাখছেন- সে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে যে নামটি বেশি সামনে আসছে, তা হলো-মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি।
বর্তমানে তিনি খাতাম আল-আম্বিয়ার কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার। এই সদর দপ্তর ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর মধ্যে জাতীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে। সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে এই সমন্বয় কাঠামোর গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুশোক পালনকারীদের মধ্যে আবদুল্লাহিও ছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ইরান ‘শত্রুর হুমকির জবাব যুদ্ধক্ষেত্রেই দেবে’ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি ‘অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি’।
দীর্ঘ সামরিক পথচলা
১৯৫৯ সালে রুদবারে জন্ম নেওয়া আবদুল্লাহি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি কমিটিতে যোগ দেন, পরে আইআরজিসিতে অন্তর্ভুক্ত হন। ইরান–ইরাক যুদ্ধে তিনি সক্রিয় ছিলেন। পশ্চিমাঞ্চলে কুর্দি বিদ্রোহ দমনে তার ভূমিকার কথাও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।
১৯৮৬ সালে তিনি আর্মি কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ইউনিভার্সিটিতে (ডাফোস) প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৯০ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত হন।
পরবর্তী সময়ে তিনি আইআরজিসির ১৬তম কুদস ডিভিশনের কমান্ডার, গ্রাউন্ড ফোর্সের চিফ অব স্টাফ ও সমন্বয় উপপ্রধান এবং এয়ার ফোর্সের উপকমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতেও শীর্ষ পদে ছিলেন; একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ-এর এর শাসনামলে তিনি সেমনান ও গিলান প্রদেশের গভর্নর ছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৬ সাল থেকে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘারির অধীনে সমন্বয় উপপ্রধান হিসেবে কাজ করেছেন।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
মেজর জেনারেল আবদুল্লাহির ওপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কয়েকজন সামরিক কমান্ডারের সঙ্গে তার নামও সেই তালিকায় ছিল।
ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন
বিশ্লেষকদের মতে, জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের মতো সমন্বয়কারী কাঠামোর ভূমিকা বাড়ে। ফলে আবদুল্লাহি এখন ইরানের সামরিক কৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকতে পারেন।
তবে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব কাঠামো বহুস্তরবিশিষ্ট এবং আইআরজিসি ও নিয়মিত বাহিনীর নিজস্ব কমান্ড চেইন রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতেও পারে। সূত্র: বিবিসি
- বিষয় :
- ইরান
- সামরিক শক্তি
- ইসরায়েল
- যুক্তরাষ্ট্র
