ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চার দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চার দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার
×

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করে ইএ-১৮জি গ্রাউলার যুদ্ধবিমান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | ১৪:৫৮

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৮৯১.৪ মিলিয়ন ডলার। যুদ্ধব্যয়ের এ তথ্য তুলে ধরেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। 

ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক এ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলেছে, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বর্তমান বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে প্রতিরক্ষা বিভাগের। বিমান হামলার শুরুতে উন্নত ও জটিল অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের কারণে খরচ বেশি হয় ব্যাখ্যা করে সিআসআইএস বলেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র কম খরচের গোলাবারুদ ব্যবহার করা শুরু করবে। তখন অস্ত্রের খরচ কিছুটা কমে আসবে। 

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তবুও বাজেটের বাইরে যে খরচ হবে তা যথেষ্ট বড় হবে। এর মানে হলো- কোনো এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ এই সংঘাতের খরচ অভ্যন্তরীণ বাজেট কাটছাঁট করে মেটানো রাজনৈতিক ও কার্যগতভাবে কঠিন হতে পারে।

আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর গত চারদিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থাকা এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থার। এর মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। গত শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে কাতার নিশ্চিত করেছে।

গত চারদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে আনাদোলু জানতে পেরেছে, রোববার কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। ছয়জন ক্রু সদস্য বেঁচে গেলেও বিমানগুলো রক্ষা পায়নি। এগুলো প্রতিস্থাপনে আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে।

শনিবার প্রথম দফার হামলায় ইরান বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে আঘাত হানে। এতে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়। উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টার্মিনালগুলোকে এএন/জিএসসি-৫২বি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার (স্থাপন ও মোতায়েন ব্যয়সহ)।

ইরান দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্পনগরে মোতায়েন থাকা ‘থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল’ ব্যবস্থার এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার তারা ধ্বংস করেছে। উন্মুক্ত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ছবিতে সেখানে আঘাতের ইঙ্গিত মিলেছে। এই রাডার ব্যবস্থা তৈরির খরচ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তেহরান। এগুলোর মধ্যে আছে- বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর, কুয়েতে ক্যাম্প আরিফজান, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দর (মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটি) এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি।

কুয়েতে রোববার দুপুরে তোলা ছবিতে দেখা যায়, আগের দিনের ইরানি হামলার পর আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির বিভিন্ন স্থানে ছাদের অংশ ধসে গেছে। ক্যাম্প আরিফজানেই ছয় মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। রোববার ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের ভেতর ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে ভেতরে বিস্ফোরিত হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই মুহূর্তে ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানো ‘সময়ের অপচয়’ হবে। এখন তিনি এমন কোনো বিষয় নিয়ে ভাবছেন না। বৃহস্পতিবার এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সময়ের অপচয়। তারা সবকিছু হারিয়েছে। তারা তাদের নৌবাহিনী হারিয়েছে। তারা যা হারাতে পারে তার সবকিছুই হারিয়েছে।’

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি স্থল আক্রমণের জন্য ইরান প্রস্তুত। ট্রাম্প এটিকে ‘অযথা মন্তব্য’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব কাঠামোকে বিনাশ করে দিতে চাওয়ার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা চাই তাদের একজন ভালো নেতা থাকুক। আমাদের কিছু লোক আছে যারা আমার মনে হয় ভালো কাজ করবে।’ ওই লোক কারা তা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।

আরও পড়ুন

×