ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার ঘাটতিতে ভুগছে ইসরায়েল: মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার ঘাটতিতে ভুগছে ইসরায়েল
×

ইরানের ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম কমে যাচ্ছে ইসরায়েলের। ফাইল ছবি: এএফপি

মিডল ইস্ট আই ও এএফপি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ২০:৩৯

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর পর তেল আবিব ওয়াশিংটনকে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

মার্কিন গণমাধ্যম সেমাফোরকে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বছরের জুনের সংঘাতে ইরানের ছোড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে প্রচুর ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়েছিল। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনামূলক কম মজুত নিয়ে নতুন সংঘাত শুরু করে দেশটি। এখন ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে।

সেমাফোরের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করছে। এতে একটি মিসাইল ভেঙে অনেকগুলো ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়ে। তখন সেগুলো প্রতিহত করা আরো কঠিন হয়ে যায়। 

একজন মার্কিন কর্মকর্তা সেমাফোরকে বলেছেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই অবগত ছিল। এটা এমন কিছু, যা আমরা আগে থেকে অনুমান করেছিলাম।’ ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন ঘাটতি নেই। তাদের কাছে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল মজুত আছে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র তেল আবিবকে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে ইসরায়েলকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন করে সরবরাহ করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে জরুরি সামরিক কেনাকাটার জন্য ৮২৭ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বাজেট অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। রোববার দেশটির গণমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা টেলিফোন বৈঠকে এই বাজেট প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছেন।

হারেৎজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, এই অর্থ নিরাপত্তা সংক্রান্ত কেনাকাটা এবং জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে। তবে ঠিক কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বা ব্যবস্থার জন্য এই অর্থ ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করেনি। অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হবে তাও স্পষ্ট করেনি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন নাকচ করেছেন। 

রোববার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা পরিদর্শনের সময় গিডিওন সারের কাছে সাংবাদিকরা ইন্টারসেপ্টরের মজুত সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে জানতে চান। জবাবে গিডিওন শুধু বলেন, ‘উত্তর হলো- না’। 

তবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের কাছে পাঠানো একটি নথিতে বাজেট বরাদ্দের কারণ সম্পর্কে ইঙ্গিত আছে। নথিতে বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধের তীব্রতা বিবেচনায় দ্রুত ও তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে আছে গোলাবারুদ কেনা, উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহ এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ সরঞ্জামের মজুত পুনরায় পূরণ করা।’

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইসরায়েলের সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের মজুত ধরে রাখতে এই জরুরি বাজেটকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইরান প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতির বরাত দিয়ে হারেৎজ জানিয়েছে, গত শুক্রবার পর্যন্ত ইরান ইসরায়েলের দিকে প্রায় ২৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

আরও পড়ুন

×