ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং

ইচ্ছামতো স্বপ্ন দেখার কৌশল

ইচ্ছামতো স্বপ্ন দেখার কৌশল
×

ইদানীং ‘স্লিপ ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা স্বপ্ন প্রকৌশল নিয়ে গবেষণা চলছে বিবিসি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের মনের এক রহস্যময় জগৎ স্বপ্ন। এখানে বাস্তবতা আর কল্পনা একসঙ্গে মিশে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমের একটি বিশেষ পর্যায়ে মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, তখনই সাধারণত স্বপ্ন দেখা হয়। তবে কোথা থেকে আসে, কেন আমরা স্বপ্ন দেখি, এর অর্থই বা কী– এসব প্রশ্নর উত্তর মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী খুঁজে চলেছে। এসব প্রশ্নের উত্তর শিগগির মিলতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ঘুম নিয়ে গবেষণা করেন এমন বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব তাড়াতাড়িই হয়তো আমরা স্বপ্নকে শুধু ব্যাখ্যাই করতে পারব না, সেগুলোকে রূপও দিতে পারব।

ইদানীং ‘স্লিপ ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা স্বপ্ন প্রকৌশল নিয়ে গবেষণা চলছে। এই উদীয়মান ক্ষেত্রে গবেষণারত বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ঘুমের ঠিক আগে আমাদের মনে কিছু নির্দিষ্ট চিন্তা ঢুকিয়ে দিতে পারলে আমরা হয়তো ঘুমের মধ্যে আমাদের কী অভিজ্ঞতা হয়, সেগুলোকে একটা দিশা দিতে পারব। প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের অভ্যাস শেখার ক্ষমতা বাড়ায়। শুধু তাই নয়, মানসিক আঘাতের সঙ্গে লড়াই করতেও সাহায্য করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ব্রেইনট্রিতে থাকেন উইল ডাউড। তিনি একজন লেখক ও শিল্পী। নিজেকে একজন আধা পেশাদার স্বপ্নদর্শী বলে মনে করেন ডাউড। এক অবক্ষয়জনিত রোগে তাঁর দৃষ্টিশক্তি এবং হাঁটাচলা প্রভাবিত হয়েছে। তিনি পড়তে পারেন না। ‘ড্রিম ইনকিউবেশন’ নামক এক কৌশল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে শুরু করেন ডাউড।

ঘুমানোর আগে নির্দিষ্ট বিষয়, সমস্যা বা প্রশ্নের ওপর মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে স্বপ্নের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করার কৌশল ‘ড্রিম ইনকিউবেশন’। এ জন্য ডাউড যে পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, তার মধ্যে একটা হলো ঘুমানোর সময় মস্তিষ্কে ছোট ছোট অডিও প্রম্পট (কোনো বিষয়ে অডিও বার্তা) পাঠানো।

ঘুমানোর সময় কবিতা পাঠের রেকর্ডিং ব্যবহার করে রাতকে প্রাণবন্ত চিত্রকল্পে মোড়া এক সফরে বদলাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এভাবেই কখনও তিনি স্বপ্নে বন্যায় বিধ্বস্ত এক রহস্যময় শহর পেরিয়েছেন, কখনও চাঁদের আলোয় ঢেউয়ের ওপর দিয়ে শেয়ালের সঙ্গে ছুটেছেন। এ বিষয়কে স্বপ্নে ইন্ধন জোগানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন ডাউড।
‘ড্রিম ইনকিউবেশন’ নামে এই কৌশল নতুন কিছু নয়। প্রাচীন গ্রিক এবং থাই সংস্কৃতিতে স্বপ্ন কী নির্দেশ দিতে চেয়েছে, তা বুঝতে মন্দিরে যেত মানুষ। তবে স্বপ্নের বিষয়বস্তুকে বাইরে থেকে প্রভাবিত করার আগ্রহ তুলনামূলক আধুনিক। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। সে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট স্টিকগোল্ড লক্ষ্য করেন, যারা ‘টেট্রিস’ নামক ভিডিও গেম খেলে ঘুমাতে যান, তারা প্রায়ই তাদের স্বপ্নে বিভিন্ন আকৃতির পতনশীল বস্তু দেখেন। এটা ‘টেট্রিস ইফেক্ট’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

একজন সোভিয়েত সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আশির দশকে টেট্রিস নামে এই ভিডিও গেম তৈরি করেছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই গেম। এখানে টেট্রোমিনো আকারের (এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জোড়া চারটি বর্গক্ষেত্রের সমন্বয়ে তৈরি জ্যামিতিক আকার) বস্তুকে সাজিয়ে খেলতে হয়। অধ্যাপক স্টিকগোল্ড বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি ছিলাম। আমরা প্রথমবার দেখাতে পেরেছিলাম আপনি স্বপ্নের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করতে পারেন।’

বর্তমানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সঙ্গে কাজ করা বিজ্ঞানী ড. অ্যাডাম হার হোরোউৎজের মতো গবেষকরা এমন প্রযুক্তি তৈরি করছেন, যা স্বপ্নকে ইচ্ছামতো এবং আরও নির্দিষ্টভাবে পরিচালিত করতে পারে। এ জন্য তিনি যে যন্ত্র তৈরি করেছিলেন তার নাম ডর্মিও। এই যন্ত্র ঘুমানোর সময় মানুষের শারীরবৃত্তীয় সংকেতগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে এবং এমন প্রম্পট (নির্দেশ) দেয়, যা কানে শোনা যায়।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কেউ যখন ঘুম এবং জেগে থাকার মধ্যবর্তী এক অবস্থায় থাকে যাকে ‘হিপনাগোজিয়া’ বলে, সেই সময় ওই যন্ত্র প্রম্পট করল ‘জলের মতো বহমান একটা স্বপ্ন দেখুন। ঘুম এবং জেগে থাকার ওই মধ্যবর্তী পর্যায়ে আমরা ছবির একটা প্রবাহও অনুভব করতে পারি।’ এক গবেষণায় ৭০ শতাংশের বেশি অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা ডর্মিও ব্যবহার করে স্বপ্ন দেখার জন্য একটা নির্দেশ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট বিষয়ে স্বপ্নও দেখেছেন।
সূত্র : বিবিসি 

আরও পড়ুন

×