ইরানকে ঘিরে সমুদ্রে নতুন কৌশল, ড্রোন স্পিডবোট নামাল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ১৬:৩৩
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে প্রথমবারের মতো মানববিহীন ড্রোন নৌযান ব্যবহারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নজরদারি ও টহল জোরদার করতে এসব ড্রোন স্পিডবোট মোতায়েন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। পেন্টাগনের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনাইসেন্স ক্রাফট’ (জিএআরসি) নামের এসব মানববিহীন নৌযান ইতিমধ্যে ৪৫০ ঘণ্টার বেশি সময় সমুদ্রে টহল দিয়েছে এবং ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ অতিক্রম করেছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের মানববিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠে চলাচলকারী ড্রোন নৌযান জিএআরসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব নৌযান যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
ড্রোন নৌযানের বৈশিষ্ট্য
জিএআরসি একটি ছোট আকারের, প্রায় পাঁচ মিটার দীর্ঘ দ্রুতগামী নৌযান। এটি দূরনিয়ন্ত্রণ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতে পারে। মূলত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও টহলের কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও প্রযুক্তিগতভাবে এগুলো হামলাতেও ব্যবহারযোগ্য।
তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এসব ড্রোন নৌযান সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে ব্যবহারের কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রে মানববিহীন নৌযানের গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নৌযান ব্যবহার করে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ক্ষতি করার ঘটনা বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
একই সময়ে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় সমুদ্রভিত্তিক ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন নৌযান মোতায়েন মূলত নজরদারি বাড়ানো এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিএআরসি নৌযান পরীক্ষার সময় উচ্চগতিতে চলার মধ্যে অন্য একটি নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে পরীক্ষার সময় একটি নৌযান বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে এসব ব্যর্থতার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি পেন্টাগনের মুখপাত্র।
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন নৌযান মোতায়েন সমুদ্রভিত্তিক যুদ্ধের নতুন ধারা নির্দেশ করছে। যদিও বর্তমানে এগুলো মূলত টহল ও নজরদারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তির আরও বিস্তৃত ও আক্রমণাত্মক ব্যবহার দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
- বিষয় :
- ইরান
- যুক্তরাষ্ট্র
- ড্রোন
- স্পিডবোট
