ট্রাম্পের যুদ্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা, ক্ষেত্র তৈরির পেছনে ‘ক্রিপ্টো ব্রো’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাঁধানো ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ইলাস্ট্রেশন: সমকাল
ব্লুমবার্গ
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:৩৭ | আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৩
জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত জানুয়ারিতে ইসলামাবাদের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ভবনে জড়ো হয়েছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতারা। সেখানে এক বিশেষ অতিথিকে তারা আতিথেয়তা দেন। ওই বিশেষ অতিথি বিদেশি কোনো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন। বরং ক্রিপ্টোকারেন্সির একটি প্ল্যাটফর্মের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।
‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্স’ নামের ওই ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর যাকে আতিথেয়তা দেওয়া হয়, তিনি প্ল্যাটফর্মটির সিইও এবং ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফ উইটকফের ছেলে জ্যাকারি উইটকফ।
অতিথিরা জড়ো হয়েছিলেন মূলত একটি ‘নন-বাইন্ডিং স্টেবলকয়েন’ সমঝোতার অনুষ্ঠানে। সেখানে তোলা একটি গ্রুপ ছবিতে জ্যাকারির একপাশে দাঁড়িয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং অন্যপাশে ছিলেন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মুনিরকে বর্তমানে পাকিস্তানের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গ্রুপ ছবিতে মুনিরের দিক থেকে দৃষ্টি সরালে চোখে পড়ে এক তরুণকে। আপাতদৃষ্টিতে তাঁকে সাধারণ মনে হলেও তিনিই মূলত গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বদলে দেওয়ার মূল কারিগর। ৩৫ বছর বয়সী ওই তরুণের নাম বিলাল বিন সাকিব।
সাকিব নিজেকে একজন ‘ক্রিপ্টো ব্রো’ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেন। কলেজে পড়াশোনার খরচ চালাতে শৌচাগার পরিষ্কারের কাজ করা এই তরুণের মতে, ইসলামাবাদে জ্যাকারি উইটকফের সফর পাকিস্তানকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরার একটি বড় পদক্ষেপ ছিল।
পাকিস্তানের এই ‘ক্রিপ্টো ডিপ্লোমেসি’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অসিম মুনিরের বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের গভীরতাকে সামনে এনেছে। ইসলামাবাদ বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি ওলটপালটের ঝুঁকিতে ফেলা ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। তাদের মাধ্যমেই ওয়াশিংটন ইরানের কাছে ১৫ দফার শান্তি আলোচনার পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। আলোচনার জন্য ইসলামাবাদকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করতে চাওয়ার পেছনে পাকিস্তানেরও স্বার্থ আছে। তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখায় ইসলামাবাদ তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’-এর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলছেন, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাকিস্তান সম্ভবত হোয়াইট হাউসে কিছুটা প্রভাব তৈরি করতে পেরেছে। সে সুযোগে তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে। প্রথাগত নিয়ম না মানা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অপ্রচলিত বিষয়গুলোও কাজে আসতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে ঠিক সেটিই ঘটছে।
একটি সেলফি ও চুক্তি
গত বছর পর্যন্ত অপরিচিত থাকা বিলাল বিন সাকিব হঠাৎ করেই পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তিনি বাইনান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও, ফান্ড ম্যানেজার ক্যাথি উড এবং বিটকয়েন বিলিয়নিয়ার মাইকেল সেলরের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এছাড়া এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ আছে। বুকেলে তাঁর দেশে বিটকয়েনকে বৈধ মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
_1775047492.jpg)
তবে কোনো সম্পর্কই সাকিবকে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সের’ মতো অতটা রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা দেয়নি। গত মাসে সাকিব ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাবে জ্যাকারি উইটকফের সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করেন। একই সময়ে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। ওই চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন জ্যাকারির বাবা স্টিভ উইটকফ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘ক্রিপ্টোর কারণে অনেক বন্ধ দরজা খুলে গেছে। নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আমরা নিজেদের নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি।’
আর হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আন্না কেলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি, খনিজ সম্পদ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করছে।’ ক্রিপ্টো এবং ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কেলি বলেন, ‘ট্রাম্প কেবল মার্কিন জনগণের স্বার্থে কাজ করেন। তাঁর সম্পদগুলো সন্তানদের দ্বারা পরিচালিত একটি ট্রাস্টের অধীনে আছে।’
পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানো
গত এক দশক ধরে দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবেও বিচ্ছিন্ন ছিল। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তখন চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দিয়েছিল।
কিন্তু গত বছরের মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগাম ঘিরে সংঘাতের সময় দৃশ্যপট হঠাৎ বদলে যায়। পাকিস্তান দাবি করে, ভারতের সঙ্গে ওই সংঘাত বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নয়াদিল্লি তখন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরে শুল্ক ঘিরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউস ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করলেও ট্রাম্প নিয়মিত ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের প্রশংসা করে যাচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে এক সভায় ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে একজন ‘দুর্দান্ত জেনারেল’, ‘চমৎকার মানুষ’ এবং ‘সিরিয়াস ফাইটার’ হিসেবে অভিহিত করেন। পাকিস্তানও এর প্রতিদান হিসেবে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
কৌশলগত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান দ্য এশিয়া গ্রুপের অংশীদার উজাইর ইউনুস বলছেন, বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানো একটি দেশের জন্য ওয়াশিংটনের ক্রিপ্টো নীতির সঙ্গে তাল মেলানো কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়। এটি পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা জানান দেওয়ার একটি কৌশল।
দুই বছর আগেও পাকিস্তান ক্রিপ্টো থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিল। জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের আশঙ্কায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এটিকে এড়িয়ে চলত। কিন্তু ২০২৪ সাল নাগাদ সেই মানসিকতা বদলে যায়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বুঝতে পারে, বৈশ্বিক কূটনীতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি দরকষাকষির হাতিয়ার হতে পারে।
দেশটি দ্রুত ভার্চুয়াল সম্পদ পরিচালনার আইন পাস করে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করে এবং বৈশ্বিক এক্সচেঞ্জগুলোকে নিবন্ধনের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। এমনকি তারা ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ (জাতীয় গ্রিডের ৫ শতাংশ) ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের জন্য বরাদ্দ করে। আর এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব পড়ে সাকিবের কাঁধে।
সাকিবের উত্থান
২০২৫ সালের মার্চ থেকে সাকিব বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ পান। তিনি অর্থমন্ত্রীর ক্রিপ্টো বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা, পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিলের সিইও এবং সবশেষ ‘পাকিস্তান ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটি’র চেয়ারম্যান হয়েছেন।
_1775047706.jpg)
এত অল্প সময়ে কীভাবে তিনি প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন তা স্পষ্ট নয়। লাহোরের এই বাসিন্দা ২০১৭ সালে বিটকয়েনের উত্থানের সময় থেকে এই খাতে আগ্রহী হন। সাকিব জানান, যুক্তরাজ্যে পড়ার সময় তিনি মুদি দোকানে ক্যাশিয়ার এবং টয়লেট পরিষ্কারের কাজও করেছেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি সমাজসেবামূলক কাজের জন্য পরিচিতি পান। ফোর্বস সাময়িকী ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কাছে থেকেও এ কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন।
সরকারি পদে নিয়োগ পাওয়ার পর সাকিব বাইনান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাওকে পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিলের কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। ঝাওকে সঙ্গে পাওয়াটা ছিল পাকিস্তানের ক্রিপ্টোকারেন্সি উত্থানের সূচনা।
সমঝোতা, ট্রাম্প পরিবার, শুল্ক হ্রাস
ঝাওয়ের নিয়োগের প্রায় তিন সপ্তাহ পর সাকিব ইসলামাবাদে ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সের জ্যাকারি উইটকফ এবং অন্য কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানান। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি স্টেবলকয়েন গ্রহণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করতে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে। এ নিয়ে পরে সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর ছেলেসহ ট্রাম্প পরিবারের সরাসরি সমর্থনপুষ্ট এবং ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই প্ল্যাটফর্মকে অনুমোদন দিয়েছেন।
জ্যাকারি উইটকফের লক্ষ্যও ছিল বেশ সুদূরপ্রসারী। গত বছরের মে মাসে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তাঁকে সাকিবের সঙ্গে লাহোরের মনোরম শালিমার উদ্যানে দেখা যায়। কথোপকথনে তিনি পাকিস্তানের অর্থনীতিকে ডিজিটালাইজ এবং দেশটির ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের বিরল খনিজ সম্পদকে ‘টোকেনাইজ’ বা ডিজিটাল সম্পদে রূপান্তরের বিষয়ে কথা বলেন। এছাড়া ডিজিটাল ওয়ালেট এবং স্টেবলকয়েনের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে ঘিরে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পরে মে মাসেই লাস ভেগাসে আয়োজিত এক বিটকয়েন সম্মেলনে সাকিব বিশ্ব ক্রিপ্টো বাজারে পাকিস্তানের উত্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রেসিডেন্টের দুই ছেলে- এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রও (উভয়ই ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা) উপস্থিত ছিলেন। এর কয়েকদিন পর সাকিব হোয়াইট হাউসে ডিজিটাল সম্পদ বিষয়ক প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা কাউন্সিলের তৎকালীন পরিচালক বো হাইনসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
গত বছরের জুন মাসে বাণিজ্য আলোচনার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাকিবকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায় পাকিস্তান। সেখানে মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাকিব ডিজিটাল সম্পদ এবং বাণিজ্যিক করিডোর নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। ওই সফরের পর পাকিস্তানি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ‘ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পাকিস্তানের সামরিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরল খনিজ সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।
ইরান যুদ্ধে মুনিরের ঝুঁকি
বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসাও পাকিস্তানের ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টো বাজার থেকে সুবিধা পেতে পারে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রায় ৪০ লাখ ক্রিপ্টো ব্যবহারকারী আছেন। তাদের আনুমানিক লেনদেনের পরিমাণ ৩০ কোটি ডলারেরও বেশি। দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতির কবলে থাকা অর্থনীতিতে বিনিয়োগের বিকল্প পথ হিসেবে ক্রিপ্টো গ্রহণের হারের দিক থেকে পাকিস্তান এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ।
এমন সম্ভাবনার পরও ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত আচরণ বিবেচনায় ঝুঁকির জায়গাও আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো- কোনো নেতার সঙ্গে সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক না কেন, তিনি খুব দ্রুত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে হওয়া পাকিস্তানের গত বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তির সুযোগ নিতে পারেন। তেহরান যেহেতু সৌদিতেও হামলা করেছে, তাই ট্রাম্প পাকিস্তানকে রিয়াদের পক্ষ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আহ্বান জানাতেই পারেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সেনাপ্রধান অসিম মুনিরকে বেশ জটিল ও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিতে পারে।
(মূল প্রতিবেদন: ব্লুমবার্গ। শিরোনাম বাদে প্রতিবেদনটি ভারতের এনডিটিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংস্করণ থেকে সংক্ষেপে অনুবাদ করা হয়েছে।)
