ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যুদ্ধবিরতির পরদিনই হরমুজে বিধ্বস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দামি ড্রোন

যুদ্ধবিরতির পরদিনই হরমুজে বিধ্বস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দামি ড্রোন
×

চালকবিহীন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত

সিএনএন

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:১৮ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:২৫

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরে থাকা অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল একটি ড্রোন পারস্য উপসাগরে হারিয়ে যাওয়ার কিছু নমুনা পাওয়া গেছে। ‘নেভি সেফটি কমান্ড’ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ ড্রোনটি গত ৯ এপ্রিল বিধ্বস্ত হয়। সামরিক নিরাপত্তার কারণে তারা সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি।

মার্কিন নৌবাহিনীর ‘নেভি সেফটি কমান্ড’ মূলত নিরাপত্তা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যুদ্ধকালীন সক্ষমতা বজায় রাখা নিয়ে কাজ করে। উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের পরিষেবা ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে সিএনএন দেখেছে, ড্রোনটি ৯ এপ্রিল ইতালির সিগোনেলা নেভাল এয়ার স্টেশন থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পারস্য উপসাগরের ওপর অবস্থানের সময় সেটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ড্রোনটি উড্ডয়নের আগেরদিন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।  এর শর্তে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা ছিল। সিএনএন লিখেছে, প্রণালির ওপর দিয়ে ড্রোনটি ওড়ার সময় রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। এর ঠিক আগে দেখা যায়, এটি ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে হঠাৎ ৯ হাজার ফুটে নেমে আসে। এরপরই সেটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

জরুরি সংকেত
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নরত অবস্থায় ট্রাইটন ড্রোনটি ভূপৃষ্ঠে থাকা পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ‘৭৪০০’ কোডে সংকেত পাঠিয়েছিল। প্রায় ৭০ মিনিট পর এটি ৪৪ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। তখন জরুরি অবস্থার সংকেত হিসেবে ‘৭৭০০’ কোড পাঠায়। বেশ কিছুক্ষণ এই সংকেত পাঠানোর পর ড্রোনটি শেষ পর্যন্ত ৯ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় নেমে গিয়ে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

সিএনএন লিখেছে, কেবল ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য দিয়ে ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে শুধু ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ড্রোনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যান এই ট্রাইটনকে ‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চালকহীন সামুদ্রিক গোয়েন্দা ও নজরদারি বিমান’ হিসেবে অভিহিত করে। জেট ইঞ্জিনচালিত যানটি একটানা সাড়ে ৮ হাজার মাইল পাড়ি দিতে পারে এবং আকাশে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় উড়তে সক্ষম।

নর্থরপ গ্রুম্যান এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি ট্রাইটন তৈরি করেছে। এর প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ২৪ কোটি ডলার। যা একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫সি স্টেলথ ফাইটার জেটের দামের প্রায় দ্বিগুণ।

আরও পড়ুন

×