ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে লেবাননের বাস্তুচ্যুতরা    

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শুরু

ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে লেবাননের বাস্তুচ্যুতরা    
×

দক্ষিণ লেবাননের কাসমিয়া এলাকা দিয়ে শুক্রবার নিজেদের বাড়িতে ফেরার পথে বিজয়ের চিহ্ন দেখাচ্ছে বাস্তুচ্যুত শিশুরা। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় পর বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা ভয় নিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে- এএফপি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০৭ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০৮

মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।  দক্ষিণ লেবাননজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র হামলা চালাচ্ছিল ইসরায়েল। এই যুদ্ধবিরতি হাজার হাজার পরিবারকে তাদের যুদ্ধবিধ্বস্ত বাড়িঘরে ফিরে আসার সংকীর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। তবে বাস্তুচ্যুতরা বাড়িঘরে ফেরার ক্ষেত্রে নানা শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরায়েল যে হামলা করবে না– এর কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে তারা ভয়ে আছে। 

বিবিসি জানায়, বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে বাস্তুচ্যুত মানুষ আলজাজিরাকে বলেন, যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ব্যাপারে তারা ইসরায়েলিদের ওপর আস্থা রাখেন না এবং নিজেদের বাড়িতে ফেরার আগে আরও অপেক্ষা করবেন।  

বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর হায় এল-সেলোম এলাকায় ফাদাল আলাউইয়ের বাড়ির একটি ঘর ছাড়া বাকি সব ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন হায়থাম দানদাশ ও তাঁর স্ত্রী রুওয়াইদা জাইতের। তাদের বাড়িটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গেছে। দানদাশ বলেন, ‘আমরা পুরো ১০ দিন এখানেই থাকব। কেবল যখন একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি কার্যকর হবে, তখনই বাড়ি ফিরব।’ 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। তাদের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ২ মার্চ লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এদিন তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনা অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর পর থেকে ইসরায়েল লেবাননের ওপর হামলা তীব্রতর করেছে এবং দেশটির দক্ষিণে তাদের আগ্রাসন প্রসারিত করেছে। এতে লেবাননে দুই হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। পরে ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প হিজবুল্লাহকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করি হিজবুল্লাহ এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুন্দর ও সুষ্ঠু আচরণ করবে।’ এই ঘোষণার পর ট্রাম্প আরও আলোচনার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান। চুক্তির শর্তাবলিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতির লক্ষণ দেখা গেলে পারস্পরিক সম্মতিতে তা বাড়ানো যাবে। 

নেতানিয়াহু এটিকে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদনের সুযোগ বলে অভিহিত করেছেন। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেছেন, তিনি আশা করেন এই চুক্তির ফলে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতরা তাদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। হিজবুল্লাহও এই যুদ্ধবিরতিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, এতে অবশ্যই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবাধ চলাচল রোধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

জাতিসংঘ ও দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া 
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইনকে পূর্ণভাবে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী যাতে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য লেবাননকে অবশ্যই অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই লেবাননের প্রতি তাঁর সংহতি প্রকাশ করেছেন।  

আঙুল ট্রিগারে: হিজবুল্লাহ
ইরান সমর্থিত লেবাননের সংগঠন হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। তবে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। সংগঠনটি বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি পালন করলেও ‘গুলি চালানোর জন্য প্রস্তুত’ রয়েছে এবং ইসরায়েল চুক্তি লঙ্ঘন করলে তারা তাৎক্ষণিক জবাব দিতে প্রস্তুত।

যুদ্ধবিরতির কারণে সক্রিয় লড়াই সাময়িকভাবে কমে এলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সীমান্ত এলাকায় বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে এবং সামরিক সতর্কতা অব্যাহত রেখেছে। তবুও সেখানকার কিছু বেসামরিক নাগরিক আরও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা করার সাহস দেখাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

×