ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিল পাসে ব্যর্থ মোদি সরকার

নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিল পাসে ব্যর্থ মোদি সরকার
×

ফাইল ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩২ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলোয় নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করতে আনা সংবিধান সংশোধনী বিল ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় এই সংবিধান সংশোধনী বিল এনেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। 

নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণের এই প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হতো। আর এর জন্য লোকসভার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দরকার ছিল। তবে সেই সংখ্যক ভোট পেতে ভারতের ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট ব্যর্থ হয়েছে। বিলটির পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছে। সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, নারী আসন সংরক্ষণের বিল পাসে ব্যর্থ হওয়ায় বাকি দুটি সংশোধনী বিল নিয়ে আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লোকসভায় বিতর্ক চলাকালীন প্রায় আড়াই বছর আগে পাস হওয়া নারী সংরক্ষণ আইনটি গত বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎ করেই কার্যকর করে দেওয়া হয়। এই আইনে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলোয় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬-এ বলা হয়েছে, আসন সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ভিত্তিতে। 

এই পদক্ষেপের বিরোধীরা যুক্তি দেন, ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কেবল বর্তমানের ৫৪৩টি লোকসভা আসনের জন্যই করা উচিত। এটি সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে সৃষ্ট বর্ধিত আসনগুলোর জন্য নয়। সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্কের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেন, বিরোধী দল নারী আসন সংরক্ষণের বিরুদ্ধে। ইন্ডিয়া জোটের সব সদস্যই নানা অজুহাতে নারী সংরক্ষণের স্পষ্ট বিরোধিতা করেছেন। 

বিলটি নিয়ে লোকসভায় বিতর্কের সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘প্রথম সত্যটি হলো, এটি কোনো নারী সংরক্ষণ বিল নয়। নারী সংরক্ষণ বিলটি ২০২৩ সালে পাস হয়েছিল। এই বিলটি দেশের নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তন করার একটি প্রচেষ্টা।’ 

কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, ভারতীয় নারীদের স্বপ্নগুলো আমাদের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কাছে জিম্মি হয়ে আছে। ভবিষ্যতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যে রাজ্যগুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলো অধিকতর রাজনৈতিক গুরুত্ব লাভ করবে। আমাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করতে হবে, আমরা কি এই বার্তাই দিতে চাই, উন্নততর শাসনের ফলে রাজনৈতিক গুরুত্বহীনতা দেখা দেয়? 

ত্রিপুরায় এডিসি নির্বাচনে বিপর্যয় বিজেপির
ত্রিপুরা বিধানসভায় একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও এডিসি (স্বশাসিত জেলা কাউন্সিল) ভোটে বড় বিপর্যয় হয়েছে বিজেপির। গত শুক্রবার ভোট গণনা শেষে দেখা গেল, রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মার দল ‘তিপ্রা মথা’ ২৮টি আসনের মধ্যে ২৪টিতেই জয়লাভ করেছে। বিপরীতে শাসক দল বিজেপি পেয়েছে মাত্র চারটি আসন। বামপন্থি গণমুক্তি পরিষদ বা একদা বিজেপির জোটসঙ্গী আইপিএফটির ঝুলি এবার শূন্য। বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির এই জনসমর্থন হারানো নিয়ে দলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে। 

আরও পড়ুন

×