ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ম্যাডেলসন ইস্যু

স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে

স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে
×

কিয়ার স্টারমার

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৪ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তাঁর সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন– এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানতেন না। এত বড় ঘটনা একজন প্রধানমন্ত্রী জানবেন না, এটি কীভাবে সম্ভব– প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ম্যান্ডেলসন প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রদূতের পদ ছেড়েছিলেন। 

গত বৃহস্পতিবার জানা যায়, দূত হিসেবে নিয়োগের আগে সরকারি নিরাপত্তা যাচাইয়ে ম্যান্ডেলসন অকৃতকার্য হয়েছিলেন। এ বিষয়টি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার অবগত ছিলেন না। এ জন্য স্টারমারের পদত্যাগ দাবি উঠেছে। 

স্টারমার ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হয়ে আধুনিক যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। যদিও ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের আঞ্চলিক ভোটে তাঁর দলের বর্তমান পরিস্থিতি এখন ভালো নয়। তবে স্টারমার ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা সীমিত করে সুনাম কুড়িয়েছেন।

ম্যান্ডেলসন ঘটনার ব্যাপারে স্টারমার বলেন, তাঁকে জানানো হয়নি, যা ছিল ক্ষমার অযোগ্য। তিনি গত শুক্রবার ইরান সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য ফ্রান্সে ছিলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ম্যান্ডেলসনের নিরাপত্তা যাচাইয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়নি, যা ছিল ক্ষমার অযোগ্য। অথচ আমি সংসদকে বলছিলাম, তাঁর ব্যাপারে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

পদত্যাগ করবেন কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, তিনি কাল সোমবার সংসদে প্রাসঙ্গিক তথ্য তুলে ধরবেন। স্টারমারের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।

ডাউনিং স্ট্রিট গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা অলি রবিন্সকে বরখাস্ত করে। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লেবার পার্টির একজন আইনপ্রণেতা বলেন, দলটি আপাতত স্টারমারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে না। তবে ম্যান্ডেলসনকাণ্ডটি এমন এক বিষয়, যা স্টারমারকে ক্রমাগত চাপের মুখে ফেলছে। আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনে বিষয়টি তাঁর দলে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। 

লেবার পার্টির আরেকজন আইনপ্রণেতা বলেন, ম্যান্ডেলসনকে বাছাই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামি। তাঁকে বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়া উচিত। প্রতারণার চেয়ে অযোগ্যতাই শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি। 

স্টারমারের মুখপাত্র বলেছেন, কোনো মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেউই এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা সম্পর্কে জানতেন না। ব্রিটেনের অনির্বাচিত উচ্চকক্ষ হাউস অফ লর্ডসের লেবার সদস্য জর্জ ফোকস সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্টারমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়াটা হবে অবিবেচনাপ্রসূত। সূত্র: সিএনএন।

আরও পড়ুন

×