জীবাশ্ম
ডাইনোসরের ক্ষুদ্রতম ডিমের স্বীকৃতি
চীনের জিয়াংসি প্রদেশে ডাইনোসরের ক্ষুদ্র জীবাশ্ম ডিম সিনহুয়া
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসি প্রদেশে ডাইনোসরের যে ক্ষুদ্র জীবাশ্ম ডিমের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, সেটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। গবেষকরা বলছেন, এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম উড়তে অক্ষম ডাইনোসরের ডিম। গত শুক্রবার জিয়াংসি প্রাদেশিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অন্বেষণ ইনস্টিটিউট আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়।
ডিমটির দৈর্ঘ্য মাত্র ২৯ দশমিক ৯৩ মিলিমিটার। এটি ২০২১ সালে গানজু শহরের মেইলিন জনপদে খুঁজে পাওয়া ছয়টি ডিমের একটি বাসার অংশ। গবেষকরা বলছেন, এ জীবাশ্মটি প্রায় ৮০ মিলিয়ন বা আট কোটি বছর আগের লেট ক্রিটেসিয়াস যুগের। জিয়াংসি ভূতাত্ত্বিক জরিপ ইনস্টিটিউট, চায়না ইউনিভার্সিটি অব জিওসায়েন্সেস (উহান) ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা দীর্ঘ তিন বছর গবেষণার পর একে নতুন একটি প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করেছেন। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘মিনিওলিথাস গাঞ্জোহুয়েনসিস’।
স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপির মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিমের খোসার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন বিশ্লেষণ করে গবেষক দলটি নিশ্চিত হয়েছে এগুলো থেরোপড গোত্রের উড়তে অক্ষম ডাইনোসরের ডিম।
এর আগে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ডাইনোসরের ডিমের রেকর্ডটি ছিল জাপানের। ২০২০ সালে দেশটিতে পাওয়া গিয়েছিল একটি ডিমের জীবাশ্ম। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪৫ মিলিমিটার। ওই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে চীনের এ ডিম। হিসাব করলে দেখা যায়, জাপানের ওই জ্বীবাশ্ম ডিম থেকে চীনেরটি প্রায় ১৬ মিলিমিটার ছোট। চীনের এ জীবাশ্ম ডিম আবিষ্কার সংশ্লিষ্ট গবেষণার ফলাফল ২০২৪ সালের অক্টোবরে হিস্টোরিক্যাল বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল। তখন থেকেই বিষয়টি বেশ আলোচনা চলে আসছে।
চীনের গানজু বেসিন এলাকাটি ডাইনোসরের ডিমের জীবাশ্মের জন্য বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ স্থান হিসেবে পরিচিত। অঞ্চলটিতে এরই মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হয়েছে। ২০০০ সালে সেখানে আবিষ্কৃত হয় বিখ্যাত ‘বেবি ইংলিয়াং’ ভ্রূণটি। এটি পাখির মতো ডিম ফুটে বের হওয়ার ভঙ্গি প্রদর্শন করেছিল।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গানজু প্রদেশের ওই ডাইনোসরের ওই জীবাশ্ম ভ্রূণ প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের। ভ্রূণটি দাঁতবিহীন থেরোপড বা ওভিরাপ্টোরোসরস ডাইনোসরের। সাধারণত তিন মিটার লম্বা আকৃতির এ প্রজাতির ডাইনোসরগুলো ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষ দিকে ১০০ থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে বর্তমান এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় বসবাস করত।
জীবাশ্মের ভ্রূণটি এমন একটি অবস্থানে ছিল, যা ডিম ফোটার কিছুক্ষণ আগে মুরগির ছানার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। মুরগি বা পাখির ছানার ডিম থেকে বেরিয়ে আসার এ পদ্ধতিকে বলে ‘টাকিং’। ভ্রূণটি আবিষ্কারের ফলে আধুনিক পাখির সঙ্গে ডাইনোসরের ভ্রূণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞানীদের ভাষ্য।
ইউনিভার্সিটি অব বাকিংহামের গবেষক ওয়েসম লি জানান, এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ডাইনোসরের সব ভ্রূণের জীবাশ্মের মধ্যে এটিই সেরা, যদিও এ জীবাশ্মটি ২০০০ সালে আবিষ্কার হয়। পরবর্তী সময়ে ১০ বছর এটি জাদুঘরে সংরক্ষিত ছিল। জাদুঘরের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় জীবাশ্মগুলো বাছাই করতে গেলে বিজ্ঞানীরা এর ভেতর ভ্রূণটির সন্ধান পান। সূত্র: সিনহুয়া, আলজাজিরা।
- বিষয় :
- স্বীকৃতি
