জেলেনস্কির শঙ্কা
ইরান যুদ্ধের আড়ালে চাপা পড়ছে ইউক্রেন ইস্যু
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩০
ইরান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন সংকট আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে সরে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা ইরান সংঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা ‘বড় ঝুঁকি’ হবে।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চললেও সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা আপাতত কম। কারণ, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বাধীন একই মার্কিন আলোচক দল একসঙ্গে ইরান ও ইউক্রেন ইস্যু সামলাচ্ছেন। এতে সমন্বয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “ইউক্রেন ‘পরে দেখা যাবে’ এমন বিষয় নয়। যুদ্ধ চলছেই, তাই সমান্তরালভাবে সমাধান খুঁজতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত উৎপাদন সক্ষমতার কারণে ইউক্রেন পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাচ্ছে না।
অবশেষে ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই অর্থ দেশটির জন্য ‘বেঁচে থাকার প্রশ্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না ইউক্রেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, প্রতিদিন দুই হাজার ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির সক্ষমতা থাকলেও অর্থ সংকটে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এর মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সহিংসতা থামেনি। উভয় পক্ষের ড্রোন হামলায় গত রাতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের ডনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় তিনজন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
যুদ্ধের এমন পরিস্থিতিতে আকস্মিক কিয়েভ সফরে গেছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি। যুদ্ধের বাস্তবতা বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই তাঁর এই সফর বলে জানিয়েছে কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট। এর আগেও যুদ্ধে আহত সেনাদের সহায়তায় তিনি ইউক্রেন সফর করেছিলেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ইউক্রেন হয়ে রাশিয়ার তেল সরবরাহ আবার শুরু হয়েছে। ড্রুজবা পাইপলাইন মেরামতের পর স্লোভাকিয়ায় তেলের প্রবাহ ফের চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপির।
- বিষয় :
- ভলোদিমির জেলেনস্কি
- ইউক্রেন
- প্রেসিডেন্ট
- রাশিয়া
- যুদ্ধ
