ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ব্রিটিশ রাজার যুক্তরাষ্ট্র সফর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি রাজা চার্লসের সূক্ষ্ম ও জোরালো সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি রাজা চার্লসের সূক্ষ্ম ও জোরালো সতর্কবার্তা
×

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানী। গতকাল বুধবার ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানী ক্

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:৫৫

বিদ্রোহের এ নতুন যুগে যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার দৃষ্টান্তের শক্তি স্মরণ করিয়ে দিতে একজন রাজারই প্রয়োজন ছিল। রাজা তৃতীয় চার্লস অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শব্দচয়ন করেন, যেমনটা করতেন তাঁর প্রয়াত মা, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। 

গতকাল বুধবার সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজকীয় বক্তব্য অপস্পষ্টতার চাদরে ঢাকা থাকে, যার অর্থ প্রায়ই অনুমান করে নিতে হয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া চার্লসের ভাষণটি ছিল লক্ষণীয়ভাবে সরাসরি। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে তিরস্কার বা সমালোচনা– কোনোটাই করেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথের প্রতি প্রচ্ছন্ন অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে পশ্চিমা গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলোকে– অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য, জোট ও আন্তঃধর্মীয় সহনশীলতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ইউক্রেনে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষার আহ্বান জানান চার্লস। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় জোর দেন। তিনি বলেন, প্রকৃতিকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার একটি প্রচ্ছন্ন আহ্বান, যেটাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে রাজা জোর দিয়ে বলেন, চিরস্থায়ী বন্ধন না ভেঙেই বন্ধুদের মধ্যে মতপার্থক্য হতে পারে, যা ছিল বিশেষ সম্পর্ক। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের যোগদানে অস্বীকৃতির কারণে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিনিধি সভার সভাকক্ষে চার্লস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কথার ওজন ও তাৎপর্য আছে, যেমনটা স্বাধীনতার পর থেকেই রয়েছে।

মার্কিন মূল্যবোধ সম্পর্কে রাজার এ ভাষ্য সম্ভবত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চেয়ে ‘নো কিংস’ ডেমোক্র্যাটদের বেশি খুশি করেছে। চার্লস আয়োজকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। তিনি ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ‘আত্মীয়তার বন্ধন মূল্যবান ও চিরন্তন’। তাঁর ভাষণটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রশংসায় পরিপূর্ণ ছিল।

চার্লসের মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তার কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। ট্রাম্প বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখতে গর্ববোধ করেন। রাজা গত শনিবার একটি মিডিয়া অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যর্থ হওয়া কথিত গুপ্তহত্যার চেষ্টারও দুবার নিন্দা জানান।

‘দ্য ফার্ম’ নামে পরিচিত রাজপরিবারটি এর আগেও এমন অনেক কিছুই দেখেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বিরল রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে রাজা চার্লস উল্লেখ করেন, সুয়েজ সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের বিভেদ নিরসনের জন্য তাঁর মা ১৯৫৭ সালে ওয়াশিংটনে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে এমন কিছু ঘটার কথা কল্পনা করা কঠিন, কিন্তু দৃশ্যমান ও অদৃশ্য উভয় ক্ষেত্রেই সম্পর্কটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা কঠিন নয়।

ব্রিটিশ রাজা প্রেসিডেন্টকে একটি অনন্য উপহার দিলেন– এইচএমএস ট্রাম্পের কনিং টাওয়ারের আসল ঘণ্টাটি। এটি ছিল রয়্যাল নেভির একটি সাবমেরিন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছিল। হোয়াইট হাউসে এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে রাজা তৃতীয় চার্লস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এ ঘণ্টা উপহার দেন। রাজা বলেন, এ উপহার দুই দেশের ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের’ প্রতীক।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজা চার্লস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে যে বিশেষ উপহার দিলেন, তা দুই দেশের সামরিক জোটের গুরুত্বকেও তুলে ধরে। ১৯৪৪ সালে প্রথম চালু হওয়া রাজকীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিনের টাওয়ারের ঘণ্টা এটি। রসিকতা করে ব্রিটিশ রাজা বলেন, ‘আর যদি কখনও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান, তাহলে শুধু ঘণ্টাটি বাজালেই হবে!’ সাবমেরিনটির নামের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নামের কোনো সম্পর্ক নেই। বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে বলেছে, ঘণ্টাটি মূলত দুই দেশের ‘বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়ের প্রতীক’।

আরও পড়ুন

×