ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলের কৃত্রিম অপুষ্টি, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুরা

অপুষ্টিতে ভোগা মায়েদের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুদের মৃত্যুহার দ্বিগুণ

গাজায় ইসরায়েলের কৃত্রিম অপুষ্টি, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুরা
×

ছবি: বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৩:২৪

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা বাধাগ্রস্ত করে একটি মানবসৃষ্ট অপুষ্টি সংকট তৈরি করেছে। আর এই সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার হচ্ছে নবজাতক শিশু, অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারী মায়েরা। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তাকারী সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) এই তথ্য জানিয়েছে। 

দ্য ডনের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত গাজার চারটি প্রধান স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তথ্য পর্যালোচনা করেছে এমএসএফ। এতে দেখা গেছে, অপুষ্টিতে ভোগা মায়েদের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুদের মৃত্যুহার স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজায় বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অর্ধেকেরও বেশি চরম অপুষ্টির শিকার। এর ফলে ৯০ শতাংশ শিশুই সময়ের আগে (প্রি-ম্যাচিউর) জন্ম নিচ্ছে এবং ৮৪ শতাংশ নবজাতকের ওজন থাকছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। এ ছাড়া গর্ভপাতের হারও আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। 

এমএসএফের জরুরি চিকিৎসা সমন্বয়ক মার্সে রোকাসপানা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে হামলা শুরু হওয়ার আগে গাজায় অপুষ্টির কোনো চিহ্ন ছিল না বললেই চলে। অথচ এখন হাজার হাজার শিশু ও নারী তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সী চার হাজারের বেশি শিশু এবং তিন হাজারের বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারী গুরুতর অপুষ্টির চিকিৎসার আওতায় রয়েছেন। 

সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল শুধু ত্রাণ আটকে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা বেসামরিক অবকাঠামো ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর ওপর নিয়মিত হামলা চালিয়ে এই স্বাস্থ্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। 

প্রতিবেদনে জাতিসংঘকে সরিয়ে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত বেসরকারি সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। এমএসএফ জানিয়েছে, এই সংস্থাটির কারণে গাজায় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ৪০০ থেকে কমে মাত্র চারটিতে নেমে আসে। সংস্থাটির জরুরি ইউনিটের প্রধান জোসে মাস সতর্ক করে বলেন, এই বিতরণ কেন্দ্রগুলো ছিল সামরিকভাবে সজ্জিত এবং প্রাণঘাতী। ত্রাণ নিতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ সহিংসতার শিকার হয়েছেন এবং খাবারের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করেছেন। 

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় আরও ৬ জন নিহত
যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় থামেনি ইসরায়েলের গণহত্যা। গত বুধবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে দখলদার দেশটির বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামাসের প্রধান মধ্যস্থতাকারী খলিল আল-হাইয়ার ছেলে আজম আল-হাইয়াও রয়েছেন। 

ধ্বংসস্তূপের নিচে ইতিহাস রক্ষার লড়াই
গাজার ঐতিহাসিক ওমারি গ্র্যান্ড মস্কের শত বছরের গ্রন্থাগারটি ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে সেই ধ্বংসস্তূপ আর ধুলাবালি থেকে দুর্লভ বই ও পাণ্ডুলিপি উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন একদল স্বেচ্ছাসেবক। রেনিম মুসা নামে এক নারী জানান, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন এই অমূল্য সম্পদগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে। 

গণহত্যার প্রতিবাদে জেরুজালেম উৎসব বর্জন নোবেলজয়ী কুয়েটজির
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে জেরুজালেম আন্তর্জাতিক লেখক উৎসবের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন নোবেলজয়ী সাহিত্যিক জে এম কুয়েটজি। উৎসবে না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, ‘গত দুই বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় যে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তার দায় থেকে দেশটির বুদ্ধিজীবী বা শিল্পী সমাজও মুক্ত হতে পারে না। ইসরায়েলের একসময়ের সমর্থকরাও এখন দেশটির এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের কারণে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।’

আরও পড়ুন

×