ইরান যুদ্ধে বিলিয়ন ডলার আয় করছে যারা
ছবি: সংগৃহীত
বিবিসি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ১১:৪৮ | আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ | ১২:০২
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি সংকট, বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে একদিকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চাপের মুখে পড়লেও অন্যদিকে কিছু বড় কোম্পানি ও খাত রেকর্ড মুনাফা অর্জন করছে।
তেল ও গ্যাস খাত
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে ওঠানামা করছে। এতে ইউরোপীয় তেল কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। ইউরোপীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি বিপি প্রথম প্রান্তিকে ৩.২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা তাদের ট্রেডিং বিভাগে “অসাধারণ” পারফরম্যান্সের ফল। শেল ৬.৯২ বিলিয়ন ডলার এবং টোটালএনার্জিস ৫.৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরন আয় কিছুটা কমলেও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় করেছে।
ব্যাংকিং খাতে রেকর্ড আয়
যুদ্ধজনিত বাজার অস্থিরতা ব্যাংকিং খাতেও বড় প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যাংক জেপি মরগানের ট্রেডিং বিভাগ একাই ১১.৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা ব্যাংকের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ। ব্যাংক অব আমেরিকা, সিটিগ্রুপ, মরগান স্ট্যানলি, গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বড় ব্যাংকগুলো মিলিয়ে মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭.৭ বিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রি করে নিরাপদ সম্পদে যাওয়ার প্রবণতা এই আয় বাড়িয়েছে।
প্রতিরক্ষা শিল্পের উত্থান
সংঘাতের ফলে প্রতিরক্ষা খাতে চাহিদা তৈরি হয়েছে ব্যাপক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জাম কেনায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা কোম্পানি বিএই সিস্টেমস, লকহিড মার্টিন, বোয়িং ও নর্থরপ গ্রুম্যানের মতো কোম্পানিগুলো বড় অর্ডার ব্যাকলগ রিপোর্ট করেছে। তবে সম্প্রতি এই খাতের শেয়ারে কিছুটা পতনও দেখা গেছে।
নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার
জ্বালানি সংকটের কারণে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রতি আগ্রহ দ্রুত বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি নেক্সটএরা এনার্জির শেয়ার ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ইউরোপের ভেস্টাস ও অরস্টেডও লাভবান হয়েছে। যুক্তরাজ্যে অক্টোপাস এনার্জি জানিয়েছে, তাদের সৌর প্যানেল ও হিট পাম্প বিক্রি ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে চীনা নির্মাতারা এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে-যেখানে অস্থিরতা কিছু খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও অন্যদের জন্য সৃষ্টি করছে বিশাল লাভের সুযোগ।
- বিষয় :
- ইরান
- বিলিয়ন ডলার!
- যুদ্ধ
- মধ্যপ্রাচ্য
