ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন
ইরানে গোপনে হামলা চালাচ্ছে আরব আমিরাত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৮:৫৩ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ | ১২:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর জেরে উপসাগরীয় এ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সর্বশেষ ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরান সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু করেছে আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে। এ অঞ্চলে দেশটি ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। সূত্র জানায়, আরব আমিরাতকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সরবরাহ করেছে ইসরায়েল।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চলাকালে মাঝেমধ্যেই ইরানে হামলার খবর আসছিল। এ অবস্থায় গত সোমবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে আসে। হামলার খবর সঠিক হলে আরব আমিরাতই হবে প্রথম কোনো উপসাগরীয় দেশ, যারা সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা হামলায় গেল।
মার্কিন গণমাধ্যমটি লিখেছে, আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী পশ্চিমা নির্মিত যুদ্ধবিমান ও নজরদারি নেটওয়ার্ক দিয়ে সুসজ্জিত। এসব হামলা ইঙ্গিত দেয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তার অর্থনৈতিক শক্তি ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব রক্ষার জন্য দেশটি এখন এগুলো ব্যবহার করতে আরও বেশি ইচ্ছুক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব হামলার মধ্যে পারস্য উপসাগরে ইরানের লাভান দ্বীপে একটি তেল শোধনাগারে আঘাতও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, ঠিক সেই সময় এপ্রিলের শুরুতে হামলাটি ঘটে। হামলার জেরে বড় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়; শোধনাগারটির বেশির ভাগ উৎপাদন ক্ষমতা কয়েক মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ইরান তখন বলেছিল, শোধনাগারটি শত্রুপক্ষের হামলায় আক্রান্ত হয়েছে। জবাবে আমিরাত ও কুয়েতের ওপর ইরান হামলা চালায়।
এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস বা বিএলএস বলছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে।
আমিরাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
যুদ্ধের সময় আরব আমিরাতকে ইসরায়েল দেশটিতে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরোধী ব্যাটারি ও সেগুলো পরিচালনার জন্য কর্মী দিয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এ তথ্য জানান।
আরও বাড়ল তেলের দাম, ব্যারেল ১০৭ ডলার
যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুনরায় আলোচনায় আসায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আলজাজিরা জানায়, গতকাল ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪৭ ডলার বা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষক কার্স্টেন ফ্রিটস বলেন, ‘আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে।’ সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের গত সোমবার সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটলে বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিলম্ব হতে পারে। ফলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ক্ষতি হতে পারে।
