যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে ফের আলোচনা শুরুর আভাস
হরমুজে জাহাজ চলাচল বেড়েছে
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ১২:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত করলে তিনি তা মেনে নেবেন। এর আগে ট্রাম্প পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের কথা বলতেন। পরমাণু সমৃদ্ধকরণ নিয়ে মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনা আটকে আছে– সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এ কথা বললেন।
কেবল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়েই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়। ট্রাম্প বহুবার বলেছেন, ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর গত শুক্রবার ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি এটাও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত করা যথেষ্ট।’
আলজাজিরা জানায়, গতকাল শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন আলোচনা শুরুর বিষয়ে আভাস দিয়েছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বার্তা পাঠিয়েছে যে, তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। এ বিষয়ে চীন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আরাঘচি বলেন, ‘চীনের আগ্রহকে মূল্যায়ন করি।’
পরে ট্রাম্পও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, শিগগির শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ইরানের জন্য ‘খুবই খারাপ সময়’ আসবে। ফরাসি সম্প্রচারকারী বিএফএমটিভিকে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে তাদের আগ্রহ রয়েছে।’
সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেসব আলোচনা হয়, তাতে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থেকেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম জানায়, তেহরানের প্রস্তাবে সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। এর মাধ্যমে লেবাননে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের হামলার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।
গত এপ্রিলে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ন্যূনতম ২০ বছরের শর্ত দেন। এবার ট্রাম্প একই বার্তা দিলেন।
তবে এ নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেল আবিব। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে ধরা যাবে না। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিরও কড়া বিরোধিতা করেছিলেন নেতানিয়াহু।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে সপরিবারে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। ওই দিন ইরানের মিনাব শহরে স্কুলে হামলা করা হলে দেড় শতাধিক শিশু নিহত হয়। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনায় হামলা শুরু করে ইরান।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তারা বলছে, অনেক দেশ তাদের নিয়ম মেনে নেওয়ায় এসব জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, চীন ও রাশিয়া এ প্রস্তাবের বিরোধিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- বিষয় :
- ইরানে আগ্রাসন
- যুক্তরাষ্ট্র
- শান্তি আলোচনা
