ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মার্কিন অর্থনীতি রক্ষায় চীন সফর ট্রাম্পের, ফিরলেন শূন্য হাতে

মার্কিন অর্থনীতি রক্ষায় চীন সফর ট্রাম্পের, ফিরলেন শূন্য হাতে
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১২:০৬

অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে সুবিধা আদায়ের এক মহাসূচি নিয়ে বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দুই দিনের এই হাইপ্রোফাইল সফর শেষে তাঁকে কার্যত সম্পূর্ণ শূন্য হাতেই ওয়াশিংটনে ফিরতে হয়েছে। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোই ছিল ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য। তবে বেইজিংয়ের মাটিতে পা রাখার পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। 

ট্রাম্প বাণিজ্য চুক্তিকে আলোচনার প্রধান টেবিলে রাখলেও পুরো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের নিয়ন্ত্রণ ছিল চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাতে। ওয়াশিংটনকে বড় কোনো ছাড় না দিয়েই উল্টো নিজেদের আত্মবিশ্বাসী অবস্থানের জানান দিয়ে এক নতুন বৈশ্বিক সমীকরণের শর্ত জুড়ে দিয়েছে বেইজিং। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে এসেছিলেন অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, বোয়িংয়ের কেলি ওর্টবার্গ এবং টেসলার ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ দিকপালরা। হোয়াইট হাউসের ধারণা ছিল, এই করপোরেট টিম বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নতুন বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করতে পারবে। কিন্তু দুই দিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি। সফরের একমাত্র বড় প্রাপ্তি হিসেবে যে বোয়িং বিমানের চুক্তির কথা প্রচার করা হচ্ছিল, তাও শেষ পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতিতে বড় কোনো হাওয়া দিতে পারেনি। অন্যদিকে, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং চীনের বাজারে তাদের অত্যাধুনিক এইচ২০০ এআই চিপ বিক্রির চেষ্টা করলেও চীনা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি। 

শুল্ক যুদ্ধ ও বিরল খনিজের তীব্র সংকট 

বর্তমানে চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন আমদানি করা শুল্কের পরিমাণ প্রায় ৪৮ শতাংশে ঠেকেছে। গত অক্টোবরে একটি চুক্তি অনুসারে ওয়াশিংটন শুল্ক কিছুটা কমায় এবং এর বিনিময়ে চীন মার্কিন প্রযুক্তি খাতের জন্য বিরল খনিজ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু এই চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বরেই শেষ হতে চলেছে। বেইজিং ছাড়ার আগে ট্রাম্পকে যখন প্রশ্ন করা হয়, এই শুল্ক বিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা, তখন তিনি অকপটে স্বীকার করেন, জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ‘শুল্ক নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

ধোঁয়াশায় কৃষি ও জ্বালানি খাতের রপ্তানি 

বাণিজ্যিক অচলাবস্থার মাঝে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা চীনের কাছে কিছু কৃষিপণ্য বিক্রির চুক্তি করেছেন এবং দুই দেশই প্রায় তিন হাজার কোটি ডলারের পণ্য আদান-প্রদানের একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে চীনের কাছে মার্কিন অপরিশোধিত তেল বিক্রির সম্ভাবনার কথা গণমাধ্যমে বেশ বড় করে প্রচার করেন। মার্কিন জ্বালানি সচিবও দাবি করেন, চীন তেল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এই বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও শি জিনপিং বলেছেন, ‘চীনের বাণিজ্যের দরজা বিশ্ববাসীর জন্য কেবল আরও বড় এবং উন্মুক্ত হবে।’ তবে ট্রাম্পের পক্ষে দেশীয় অর্থনীতি বা মার্কিন শেয়ারবাজারকে চাঙ্গা করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট এবং দৃশ্যমান জয় আসেনি।  

ট্রাম্পের চীন সফরের পর তাইওয়ানের কড়া জবাব 

ট্রাম্পের চীন সফরের পর স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানে ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাইওয়ানের সুরক্ষায় সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে দুই পক্ষকেই শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাইওয়ান একটি ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন’ গণতান্ত্রিক দেশ এবং তারা কোনোভাবেই বেইজিংয়ের অধীন নয়। বেইজিংয়ের সামরিক হুমকিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রধান ঝুঁকি উল্লেখ করে তাইপে আরও জানায়, ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তাইওয়ানের আত্মরক্ষায় অস্ত্র সরবরাহ করার যে ঐতিহাসিক মার্কিন নীতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা এখনও অপরিবর্তিত আছে।

আরও পড়ুন

×