সিএনএনের বিশ্লেষণ
ইরানে ব্যর্থতা মুছতে কিউবায় সরকার পতন চান ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৭:১৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার কিউবায় শাসন পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন, যে ধরনের আকাঙ্ক্ষা ইরানে অধরা রয়ে গেছে। কিন্তু মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী আবারও নতুন কোনো রণাঙ্গনে যুক্ত হলে ওয়াশিংটনকে উচ্চ রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে কিউবাকে হুমকি দিয়ে আসছেন– তিনি এই দরিদ্র রাষ্ট্রটির সঙ্গে ‘যা খুশি’ করতে পারেন এবং ‘কিউবা দখল করার সম্মান’ পেতে পারেন। গত বুধবার তিনি বলেন, ‘আমি কিউবার জনগণকে স্বাধীনতা দিতে যাচ্ছি।’ ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিউবা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। আপনারা তা দেখতে পাচ্ছেন। দেশটি ভেঙে পড়ছে। তাদের কোনো তেল নেই, টাকা নেই। কিন্তু আমরা তাদের জনগণকে সাহায্য করতে এসেছি।’ কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো ক্ষোভ রয়েছে। ১৯৯৬ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর সরকারের সময় দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছিল এবং তিন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হয়েছিল। কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো তখনকার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার বিরুদ্ধে ওই ঘটনার রেশ ধরে রাউলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ তুলেছেন।
এ অভিযোগ তুলে ট্রাম্প হয়তো হাভানার শাসনব্যবস্থাকে আরও চাপের মধ্যে ফেলতে চাইছেন। এই নতুন আইনি ফ্রন্ট সামরিক পদক্ষেপ বা বিশেষ বাহিনীর অভিযানের একটি অজুহাতও হতে পারে। ঠিক গত জানুয়ারিতে যেমন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের গবেষক লি শ্লেঙ্কার সতর্ক করেছেন, ফ্লোরিডায় উন্মোচিত বিচার বিভাগের অভিযোগপত্রটি হোয়াইট হাউসের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। এটি কিউবার চারপাশে সামরিক মোতায়েনের মতো ঘটনা ঘটাতে পারে।
কিউবাকে নিয়ে এই কৌশল হলো প্রশাসনের সেই কৌশলের সর্বশেষ পরীক্ষা, যেখানে অবরোধ আরোপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে শত্রুদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলা হয়। এই কৌশল ভেনেজুয়েলায় কাজ করেছিল। তবে ইরানে কৌশলটি প্রচণ্ডভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মনে হচ্ছে, কিউবায় সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে চান ট্রাম্প।
উপকূলে গোয়েন্দা বিমানের তৎপরতা বৃদ্ধি
ভেনেজুয়েলা ও ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের আগে যেসব লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, কিউবার ব্যাপারে এখনও তেমন ঘটেনি। তবে সিএনএন জানিয়েছে, কিউবার উপকূলের কাছে মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা বিমানের চলাচল ব্যাপক বাড়ছে। ওই দুই দেশে হামলার আগে এ ধরনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় নতুন কোনো সামরিক অভিযানকে সমর্থন করার মতো রাজনৈতিক পুঁজি ট্রাম্পের হাতে নেই বললেই চলে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আরেকটি যুদ্ধ চাইছে না।
মার্কিন প্রশাসন কিউবায় বিজয় দেখছে কেন
মূলত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য ট্রাম্প একটি বিজয় পেতে চান। রিপাবলিকান নেতা মনে করেন, ‘এই নীতি বিদেশে মার্কিন মর্যাদা ও সম্মান পুনরুদ্ধার করছে।’ বাস্তবে তা নয়। ট্রাম্প এখনও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে পারেননি। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বা গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করতে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন। এ অবস্থায় কিউবাকে শত্রু থেকে অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করা গেলে সমগ্র পশ্চিম গোলার্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন ট্রাম্প।
- বিষয় :
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- কিউবা
