কঠোর হলো গ্রিন কার্ড নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভিসাধারীদের ওপর যে প্রভাব পড়বে
অস্থায়ী ভিসাধারীদের নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে
ফাইল ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৮:৪৯ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ১০:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কোনো বিদেশি নাগরিক যদি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে চান, তবে তাঁকে অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা প্রচলিত অভিবাসন নিয়মে এটি একটি আমূল পরিবর্তন। নতুন নিয়মের ফলে দেশটিতে বৈধভাবে থাকা লাখ লাখ শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং অস্থায়ী কর্মীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কালার এক বিবৃতিতে এই নতুন নীতির পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এখন থেকে বিশেষ বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কোনো বিদেশি নাগরিককে দেশটিতে অবস্থানকালীন ‘স্ট্যাটাস পরিবর্তন’ বা গ্রিন কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে না। বিদেশি নাগরিকরা তাদের নিজ দেশ থেকে আবেদন করবেন। এতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে বসবাস শুরু করেন, তাদের খুঁজে বের করে বিতাড়িত করার প্রয়োজনীয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমে যাবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই নীতিমালার মাধ্যমে মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা অভিবাসন দপ্তরের ওপর কাজের চাপ কমবে। সহিংস অপরাধ ও মানব পাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ভিসা প্রসেসিং এবং নাগরিকত্বের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা। হায়াস নামের একটি সাহায্য সংস্থা জানিয়েছে, এই অমানবিক সিদ্ধান্তের ফলে মানব পাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তি এবং নির্যাতিত বা অবহেলিত শিশুরা ঝুঁকিতে পড়বে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে যারা জীবন বাঁচাতে নিজ দেশ থেকে পালিয়ে এসেছিল, তাদের আবারও সেই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সমালোচকদের উদ্বেগ ও আইনি লড়াইয়ের শঙ্কা
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কারণ গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা অনেক অস্থায়ী নাগরিকেরই স্বামী, স্ত্রী বা সন্তান মার্কিন নাগরিক। তারা কর দিচ্ছেন এবং মার্কিন শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ করছেন। হুট করে তাদের দেশ থেকে বের করে দিলে দীর্ঘ প্রক্রিয়াকরণ জটিলতা ও চরম মানবিক সংকট তৈরি হবে।
তা ছাড়া নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করলে অনেকের ক্ষেত্রেই ৩ থেকে ১০ বছরের জন্য প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই নীতিমালার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বড় ধরনের আইনি লড়াই ও মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সংকুচিত করার যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলছে, এই ঘোষণা তারই সর্বশেষ বড় পদক্ষেপ। নতুন এই নীতির ফলে ১২ লাখেরও বেশি অপেক্ষমাণ আবেদনকারীকে এখন বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
