ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিবিসির বিশ্লেষণ

কিউবার ওপর ট্রাম্পের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী

কিউবার ওপর ট্রাম্পের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী
×

ফাইল ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ১২:৫৬ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ১২:৫৮

যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার সম্পর্ক কয়েক দশক ধরেই টানাপোড়েনপূর্ণ ও ভঙ্গুর। সম্প্রতি এ সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে গেছে। কিউবাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিযুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর জ্বালানি অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও এখন সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

ওয়াশিংটন সতর্ক করছে, ক্যারিবীয় দেশটির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে কিউবা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দিতে একটি ‘প্রতারণামূলক মামলা’র আয়োজন করেছে।

গতকাল শনিবার বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প হাভানার নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন– কিউবা ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে’। গত মার্চে তিনি ক্ষমতা দখলের হুমকি দিয়ে বলেন, দেশটি গভীর সংকটে রয়েছে। কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনার ঘোষণা তিনি দেননি। তবে এ নিয়ে কিউবা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ক্যারিবীয় দ্বীপটির ওপর নজরদারি কার্যক্রম বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতে কিউবার কাছে থাকা তাদের বিমানগুলোর অবস্থান সম্প্রচার করে। যুক্তরাজ্যের ড্রোন বিশেষজ্ঞ ড. স্টিভ রাইট বলেন, ফ্লাইট ট্রান্সপন্ডার চালু রাখা ‘সম্ভবত ইচ্ছাকৃত’। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চাপ বজায় রাখার জন্য আকাশে তাদের নজর রয়েছে– এমন একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়।

মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, কিউবার কাছে ৩০০টি ড্রোন রয়েছে এবং তারা নিকটবর্তী মার্কিন লক্ষ্যবস্তু, যেমন– গুয়ানতানামো বে, ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট এবং মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমটি আরও জানায়, এ গোয়েন্দা তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, হাভানায় ইরানি সামরিক উপদেষ্টারা রয়েছেন। অন্যদিকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেছেন, কিউবা ‘যুদ্ধের হুমকিও দেয় না, যুদ্ধ চায়ও না’। তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একটি ‘প্রতারণামূলক অজুহাত’ তৈরির অভিযোগ করেছেন। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত বৃহস্পতিবার বলেন, হোয়াইট হাউসের পছন্দ ‘একটি কূটনৈতিক সমাধান’। তবে তিনি এও যোগ করেন, যে কোনো হুমকির বিরুদ্ধে দেশকে রক্ষার অধিকার ও দায়িত্ব ট্রাম্পের রয়েছে। তিনি কিউবাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলেও অভিহিত করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় রুবিওর বিরুদ্ধে ‘সামরিক আগ্রাসন উস্কে দেওয়ার’ চেষ্টা এবং মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর দেশকে ‘নিষ্ঠুরভাবে ও পরিকল্পিত’ আক্রমণ চেষ্টার অভিযোগ তোলেন রদ্রিগেজ।

অনেক দেশের মতো কিউবাতেও একজন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী আছেন। কিন্তু এটি একটি অনন্য স্তরবিন্যাস দ্বারা শাসিত হয়। সেই স্তরবিন্যাসে এখনও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে উঠে আসা অন্যতম বিখ্যাত একটি নাম জড়িত– কাস্ত্রো। 

কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা নিজেদের ফিদেল কাস্ত্রোর ১৯৫৯ সালের কিউবান বিপ্লবের উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখেন। যে বিপ্লব মার্কিনপন্থি স্বৈরশাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। পরবর্তী দশকগুলোতে দ্বীপরাষ্ট্রটির সরকারের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে ‘সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতা’ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এ কারণে তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগপত্রটিকে কিউবার একদলীয় কমিউনিস্ট ব্যবস্থার শীর্ষ ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত আঘাত হিসেবে বিবেচনা করেন।

কমিউনিস্ট কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ-নিষেধাজ্ঞার কারণে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট রয়েছে। আগে ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকো থেকে জ্বালানি আসত। বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় শাসক পরিবর্তন হওয়ায় সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্য দেশগুলোকেও কিউবায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সতর্ক করেছেন।

আরও পড়ুন

×