আবারো পাল্টাপাল্টি হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
ড্রোন হামলার পর ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিহত করতে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। ছবি: এএফপি
বিবিসি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ১০:৪৭
উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এতে দুই দেশের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে চাপে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর দিকে ছোড়া ইরানের চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ড্রোন হামলার পর ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিহত করতে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে।
সেন্টকমের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি। কয়েক দিন আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছিল, যা দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিমানবন্দর হামলার দায় অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ওই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেন্টকম এ দাবিকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের হামলা ছিল ‘পরিকল্পিত, হিসাবকৃত এবং অযৌক্তিক’।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়, যার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়, যার মাধ্যমে বিশ্বে ব্যবহৃত প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, 'যতক্ষণ না একটি চুক্তি সম্পাদিত, অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।'
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ইরান
- যুদ্ধবিরতি
