পুতিনকে বার্তা দিতে চেলসির সাবেক মালিকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জেলেনস্কি
ভ্লাদিমির পুতিন, রোমান আব্রামোভিচ ও ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি
দ্য কিয়েভ ইনডিপেনডেন্ট
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৮:৫৭ | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৯:০৫
শান্তি আলোচনা নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বার্তা পাঠাতে ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচকে অনুরোধ করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ফিনান্সিয়াল টাইমস (এফটি)।
আব্রামোভিচ ফুটবল ক্লাব চেলসির সাবেক মালিক। পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি ২০২২ সালে ক্লাবটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। একই সময় তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্যে।
রোববার ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি নিজেও আব্রামোভিচের সঙ্গে বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আব্রামোভিচ এসে আমরা কি করতে পারি তা জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর মাধ্যমে পুতিনকে বলতে চেয়েছিলাম, ইউক্রেন কখনোই ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেবে না। প্রয়োজনে আমি রাশিয়া বা বেলারুশের বাইরে যেকোনো শহরে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে প্রস্তুত।’
স্কাই নিউজকে দেওয়া জেলেনস্কির বয়ান ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন থেকে ভিন্ন। গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, জেলেনস্কিই গত মে মাসে আব্রামোভিচকে কিয়েভে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তখন তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি শীর্ষ বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ দেখান।
তবে জেলেনস্কির ওই আগ্রহের নেতিবাচক জবাব দিয়েছিলেন পুতিন। গত শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনমিক ফোরামে তিনি বলেন, গত ২১ মে ব্যবসায়ী মহলের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তখন তিনি ওই প্রতিনিধিকে বলেছিলেন, জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এদিকে ইউক্রেনীয় সরকারের একটি সূত্র ‘সুসপিলনে’ নামের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ইউক্রেনের শর্তগুলো জানার একটি উপায় হিসেবে রাশিয়াই জেলেনস্কি ও আব্রামোভিচের মধ্যকার বৈঠকের আয়োজন করেছিল।
জেলেনস্কি-পুতিনের মধ্যে আব্রামোভিচের মধ্যস্থাতার চেষ্টার খবরটি সামনে আসার তিনদিন আগে রুশ প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি পাঠান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। সেই চিঠিতে তিনি পুতিনকে সরাসরি সাক্ষাৎ করার এবং আলোচনা করে যুদ্ধ অবসানের আহ্বান জানান। চিঠিটিতে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পুতিন এই খোলা চিঠির আহ্বান মেনে বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একজন কর্মকর্তা এফটিকে বলেছেন, আব্রামোভিচের মাধ্যমে পুতিনের কাছে পাঠানো বার্তাটির তুলনায় খোলা চিঠির ভাষা তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক। তবে মূল বিষয়গুলো প্রায় একই রকম।
২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর দিক থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আব্রামোভিচ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এমন সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ধনকুবের এখনো কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার কাজে জড়িত। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আব্রামোভিচের ভূমিকা কিছুটা কমে গেছে।
