মূল জটিলতা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কতটা সমঝোতা হলো
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি
বিবিসি
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৩:৫৪
শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হবে। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ ও এপ্রিলে অস্ত্রবিরতির পর অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে, মূলত সেটিই এই সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম টানা বেড়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছিল। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির মূল্যস্ফীতিকে গত তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে নৌ অবরোধের কারণে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের অর্থনীতি আরও চাপে পড়ে। ফলে উভয় পক্ষেরই কিছুটা স্বস্তি দরকার ছিল।
চুক্তিটির প্রধান লক্ষ্য হলো ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ও পরিসর বাড়ানো। নতুন করে আরও ৬০ দিনের জন্য উভয়পক্ষ শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে। পাশাপাশি দুই পক্ষ আলোচনায় বসতেও সম্মত হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিবিসির প্রতিনিধি টম বেটম্যান বলছেন, এখনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে, তাতে মনে হচ্ছে এই সমঝোতা যুদ্ধ বাঁধার মূল জটিলতাগুলোর কোনো চূড়ান্ত সমাধান দেবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় বরাবরই দুটি প্রধান বিষয় বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। কেবল এই দুই শর্ত পূরণই নয়, বরং কোন প্রতিশ্রুতিটি আগে বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের জটিলতা আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো তেহরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর দীর্ঘমেয়াদী (অন্তত ২০ বছর) এবং আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য একটি নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করা। অপরদিকে, ইরানের প্রধান দাবি হলো তাদের ওপর থাকা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া। এই মৌলিক চাওয়াগুলোর সমন্বয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সমঝোতায় এসব বিষয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা বা পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রশ্নে কোনো অর্থবহ বা চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
এর বাইরে ইসরায়েলের দাবি এবং ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থি রিপাবলিকানদের চাপও আছে। তাদের মতে, চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের প্রচলিত অস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও সামরিক সহায়তার বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
