ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

প্রধান কার্যালয় ছাড়ছে তৃণমূল, সরানো হচ্ছে মালপত্র

অস্বীকার করলেন নেতারা

প্রধান কার্যালয় ছাড়ছে তৃণমূল, সরানো হচ্ছে মালপত্র
×

তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়। ছবি: সমকাল

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ১৯:১৮ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ | ১৯:২০

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কলকাতার মেট্রোপলিটনে অবস্থিত অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় (তৃণমূল ভবন) খালি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাইপাসের কাছে ক্যানাল রোডের এই বহুতল ভবন থেকে মঙ্গলবার মালপত্র সরানোর কাজ শুরু হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং বাড়ির মালিকের চাপের মুখে ভবন ছাড়ার খবর এলেও দলের পক্ষ থেকে এখনও ভবন খালি করার ব্যাপারটি অস্বীকার করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবন থেকে ফ্লেক্স, ব্যাকড্রপ, চেয়ার-টেবিলসহ ইত্যাদি জিনিস সরিয়ে নিচে নামিয়ে ফেলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। 

এদিকে বহুতল ভবনটির বাইরের দিকে যে সবুজ রং করা অংশ রয়েছে, তাও সাদা রং করা হচ্ছে। রাজমিস্ত্রিরা বলছেন, তাদের আপাতত সাদা প্রাইমার লাগিয়ে দিতে বলা হয়েছে। পরে কী রং হবে, তা এখনও তাদের বলা হয়নি।

মমতার দলের পুরনো পার্টি অফিস তপসিয়ায়। সেখানে চলমান সংস্কারকাজ এখনও বাকি। ফলে দলের কাজ কোথা থেকে চলবে সেই বিষয়ে এখনও কেউ নিশ্চিত নয়। মনে করা হচ্ছে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকেই দলের কাজ চালানো হবে।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকেই উত্তর পঞ্চান্নগ্রামে বাইপাসের ধারে পুরনো তৃণমূল ভবন ভেঙে ফেলে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকেই কলকাতার মেট্রোপলিটনের একটি পাঁচতলা বাড়ি অস্থায়ী তৃণমূল ভবন হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। সবই ঠিক ছিল। কিন্তু ভোটে হারার পরেই ওই বাড়ির মালিক মন্টু সাহা বেঁকে বসেন।  

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এককালের আস্থাভাজন মনোতোষ সাহা অর্থাৎ মন্টু সাহা মে মাসেই খালি করতে বলেছিলেন ভবনটি। তিনি দাবি করেন, বার বার বলার পরেও ওই ভবন খালি করছে না তৃণমূল। এমনকি এই অভিযোগ নিয়ে প্রগতি ময়দান থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও থানায় গিয়েছিলেন কুণাল এবং রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

এদিকে কার্যালয় সরে যাওয়ার জল্পনা খারিজ করে দিলেন তৃণমূল ভবনের ইনচার্জ সুবীর মজুমদার। তার দাবি, ‘আমরা নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত ব্যবহার করি। চারতলা ও পাঁচতলা মালিকের দখলে রয়েছে। সেই চারতলা ও পাঁচতলা থেকেই জিনিসপত্র সরানো হয়েছে।’  

২০২৫ সালে চুক্তি শেষের জল্পনা খারিজ করে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে মালিকের ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি আছে। আমরা এখানেই আছি। তৃণমূল ভবন এখানেই আছে। আপনারা ভুল তথ্য পেয়েছেন। উপরের দুটি তলার মালিক তার কাজের জন্য ব্যবহার করছেন। আমাদের তিনটি তলা এখনও আছে। ওরা মেরামত করতে চাইছে। বাড়ির কী রং হবে, সেটা মালিক ঠিক করছেন। তবে ভবন আমাদের আছে। 

সূত্রের খবর, এই দুটি তলা তৃণমূলকে ভাড়া দেননি ‘মডার্ন ডেকরেটরস’-এর মালিক মন্টু সাহা। দেওয়া হয়েছিল প্রথম তিনটি তলা। কিন্তু তার সঙ্গে উপরের দুটি তলাতেও দলীয় কাজ চলত। এদিন মন্টুবাবু তার ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে ‘তৃণমূল ভবন’-এ গিয়েছিলেন। সেখানেই একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হয়। তারপর চার ও পাঁচতলায় গিয়ে মন্টুবাবুর ছেলে অমিত ও তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে থেকে ঘর খালি করার প্রক্রিয়ার তদারকি করেন। সরিয়ে নেওয়া হয় ব্যানার, পোস্টার ও চেয়ার। 

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিচের তলাগুলিও খালি করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে, এমনটাই দাবি পরিবারের।

বাইপাসের ধারে তৃণমূল কংগ্রেসের এই কার্যালয় ২০২২ সালে ভাড়া নেওয়া হয় পার্টির সদর দপ্তর চালানোর জন্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বছরের মে মাসে একেবারে পুজো ও যজ্ঞ করে এই বাড়ি থেকে পার্টি অফিসের কাজ শুরু করেন।

তবে বহুতল ভবনটির নিচে এখনও ‘তৃণমূল ভবন’ লেখা জ্বলজ্বল করছে। তৃণমূলের বেশ কয়েকটি পতাকাও টাঙানো রয়েছে।

আরও পড়ুন

×