ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীর নেতৃত্ব ও জেন্ডারবান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীর নেতৃত্ব ও জেন্ডারবান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ
×

ছবি-সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ২২:৫০

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে জেন্ডারবান্ধব পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে ‘নারীর নেতৃত্বে মানবিক এশিয়া’ শীর্ষক এক অ্যাডভোকেসি সভায়।

বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ উইমেন হিউম্যানিটারিয়ান প্ল্যাটফর্ম (বিডব্লিউএইচপি)। ‘শিফট এশিয়া’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে অ্যাসোসিয়েশন অব ভলান্টারি অ্যাকশনস ফর সোসাইটি (আভাস), সহযোগিতায় ছিল অক্সফ্যাম।

সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি, জরুরি সাড়া প্রদান এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জেন্ডার-রূপান্তরমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘শিফট এশিয়া’ (সাপোর্টিং হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভস ফর ফেমিনিস্ট ট্রান্সফরমেশন ইন এশিয়া) দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য মানবিক কার্যক্রমে নারীর নেতৃত্ব ও নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জোরদার করা। ২০২২-২৩ সালে বাস্তবায়িত ‘উইমেনস লোকাল হিউম্যানিটারিয়ান লিডারশিপ’ প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মিয়ানমারে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অক্সফ্যামের মনিটরিং, ইভ্যালুয়েশন, অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড লার্নিং (এমইএএল) ব্যবস্থাপক মুরাদ পারভেজ। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব ও নারী সংগঠনগুলোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব, স্বীকৃতি এবং সম্পদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে এখনও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ, পুনর্বাসন ও সেবা শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে কমিউনিটি থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত নারীবান্ধব মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, মানবিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ সংগঠন এবং নারী নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীর নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন, সম্পদে প্রবেশাধিকার এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিডব্লিউএইচপির প্রতিনিধি রওশন আরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন

×