ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

হোয়াং: বিস্ময়বালক থেকে বিশ্বকাপের তারকা

হোয়াং: বিস্ময়বালক থেকে বিশ্বকাপের তারকা
×

দক্ষিণ কোরিয়ার নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছেন হোয়াং ইন-বিউম। ছবি: এএফপি

নুর ইসলাম টিপু

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ২২:১৬

দলে সন হিউং-মিনের মতো বড় তারকা আছে। এরপরও বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম ম্যাচে সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন হোয়াং ইন-বিউম। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে গত শুক্রবারের ম্যাচে নিজে একটি গোল করেছেন, সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন আরও একটি। ২৯ বছর বয়সী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচটা ২-১ ব্যবধানে জেতে দক্ষিণ কোরিয়া। অনুমিতভাবে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা জেতেন হোয়াং। 

আগামীকাল শুক্রবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামবে কোরিয়া। আগের ম্যাচের পারফরম্যান্সের সুবাদে মেক্সিকো ম্যাচের আগে হোয়াংকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনা হবে না-ই বা কেন? হোয়াং-ই যে এখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ তারকা। 

হোয়াং যে হুট করে বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন, ব্যাপারটা এমন নয়। তাঁর প্রতিভার ব্যাপারে বহু আগে থেকেই জানাশোনা আছে সতীর্থদের। তাই তো হোয়াংয়ের ম্যাচ জয়ী পারফরম্যান্সে অবাক হননি তাঁর সাবেক সতীর্থরা। 

পেশাদার ফুটবলে হোয়াংয়ের যাত্রা শুরু ২০১৫ সালে। দাইজিওন সিটিজেনের বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে এসে ১৮ বছর বয়সে ক্লাবের মূল দলে জায়গা পান হোয়াং। একই বছর কে লিগের ক্লাবটিতে যোগ দেন সাবেক স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আলভারো সিলভা। হোয়াংকে সে সময় খুব কাছ থেকে দেখা সিলভা এক দশক পর বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে মোটেও অবাক হননি। বরং এ নিয়ে সন্তানদের সামনে গর্ব করেছেন, 'সকালে ম্যাচের হাইলাইটস দেখছিলাম। হোয়াংয়ের গোল দেখার পর আমি দুই সন্তানকে বলেছি, "তোমাদের বাবা এক সময় এই ছেলেটার সঙ্গে খেলেছে।'

হোয়াংয়ের দুর্দান্ত প্রতিভা কোনো না কোনোদিন পুরো বিশ্ব দেখবে, সেই বিশ্বাস আগে থেকে ছিল সিলভার, '১৮ বছর বয়সেও ও (হোয়াং) অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল। ওর কাছে বল যাওয়ার আগেই জানত, কী করবে। অসাধারণ প্রতিভা ছিল ওর।'

দুর্দান্ত সব পাস, বুলেট গতির শট কিংবা গোল করার ক্ষমতায় বিস্মিত সিলভা কোরিয়ান মিডফিল্ডারের মধ্যে লুকা মডরিচ ও মাইকেল লডরুমের ছায়া খুঁজে পেতেন সিলভা। হোয়াংয়ের প্রতিভায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, সাবেক সতীর্থ ও তৎকালীন মালাগা ফুটবল ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ফ্রান্সেকো আরনাউকে হোয়াংয়ের কথা বলেছিলেন। হোয়াং যে একদিন ভবিষ্যৎ তারকা হবেন, সেই ভবিদ্বাণীও করেছিলেন তিনি। 

২০১৯ সালে কানাডার ক্লাব ভ্যাঙ্কুভারে নাম লেখান হোয়াং। সেখানে সতীর্থ হিসেবে পান সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার জন এরিচেকে। হোয়াংকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনিও, 'হোয়াং ছিল খুবই দক্ষ। দুই পায়েই সমান ভালো খেলতে পারত, ওর পায়ের শক্তি ছিল অসাধারণ। প্রয়োজনে কঠিন ট্যাকল করতেও পিছপা হতো না। উচ্চতা খুব বেশি না হলেও হেডে ভালো ছিল এবং শারীরিকভাবেও শক্তিশালী ছিল। সব মিলিয়ে ও ছিল পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার।'

সে সময় ধীরে ধীরে নিজেকে মেলে ধরা হোয়াং দক্ষিণ কোরিয়ার নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। সাবেক সতীর্থের এমন উত্থান মুগ্ধ করেছে এরিচেকেও, 'ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, ও ম্যাচসেরা হয়েছে। ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। তবে অবাক হইনি, কারণ ও সত্যিই এতটাই ভালো খেলোয়াড়।'

আরও পড়ুন

×