ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

ইরানের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন নিয়ে বাগ্‌যুদ্ধ

১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় চূড়ান্ত হলেও খরচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতপার্থক্য

ইরানের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন নিয়ে বাগ্‌যুদ্ধ
×

ফাইল ফটো

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৯:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুইজারল্যান্ডে প্রথম ধাপের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শেষে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে তীব্র শব্দযুদ্ধ শুরু হয়েছে। শান্তি আলোচনার প্রথম সেশন শেষ করে গতকাল মঙ্গলবার ইরানি প্রতিনিধি দল দেশে ফেরে। এর পরপরই পারমাণবিক কার্যক্রম পরিদর্শন ও অর্থ খরচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দেশ দুটি। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তেহরানে পৌঁছে জানান, বুর্গেনস্টক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার অর্থ (দুই দফায় ৬ বিলিয়ন করে) ছাড়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এই অর্থ ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ে ওয়াশিংটন যে দাবি করছে, তা নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, এই ১২ বিলিয়ন ডলার একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে থাকবে। এটি যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার নিয়ন্ত্রণ করবে। এই অর্থ দিয়ে ইরানকে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা, গম ও সয়াবিন কিনতে হবে। 

ট্রাম্পের এই দাবিকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে গতকাল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের আসল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করা। আমরা বুঝতে পারছি, এখন সেটা মার্কিন কৃষকদের পকেট ভরানোর ধান্দায় রূপ নিয়েছে। ইরান সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, ইচ্ছামতো এই অর্থ খরচ করবে।’ 
ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও জানিয়েছেন, এই অর্থ শুধু জরুরি মানবিক পণ্য নয়, অন্যান্য অ-নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত পণ্য আমদানিতেও ব্যবহার করা হবে। 

একইভাবে পারমাণবিক কার্যক্রম পরিদর্শন নিয়েও দুই পক্ষে চরম বৈপরীত্য দেখা গেছে। জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) পরিদর্শকদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্পও দাবি করেন, ইরান অনন্তকাল পরমাণু পরিদর্শনে রাজি হয়েছে। তা না হলে কোনো আলোচনা হতো না। 
কিন্তু জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি এবং মুখপাত্র বাঘাই এ দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি এবং আইএইএ-প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে তাদের কোনো বৈঠকও হয়নি।

৬০ দিনের রোডম্যাপ
গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে গত রবি ও সোমবার সুইজারল্যান্ডে প্রায় ১৮ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনা চলে। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। এই আলোচনার জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত সাময়িকভাবে ইরানের ওপর তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ৩ শতাংশ কমেছে। 

এদিকে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে ওমানের মাসকাটে ইরান-ওমান যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরান স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালির নৌ-ব্যবস্থাপনায় তাদের সার্বভৌম অধিকার বজায় থাকবে। 
 

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না: মাসুদ পেজেশকিয়ান
গতকাল পাকিস্তানে গিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইসলামাবাদে পৌঁছে তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান এই আলোচনার জন্য দারুণ চেষ্টা করেছেন। আমরা তাদের ভূমিকার প্রশংসা করি। আমরা আমেরিকাকে বিশ্বাস করি না। কারণ আলোচনার মধ্যেই তারা আমাদের ওপর দুবার হামলা করেছে। তবু আমরা সংলাপ ও শান্তির জন্য প্রস্তুত। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

আরও পড়ুন

×