ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ইউরোপে তাপপ্রবাহ

গরম থেকে বাঁচতে ৩ দিনে খরচ ৩৪ হাজার টাকা

গরম থেকে বাঁচতে ৩ দিনে খরচ ৩৪ হাজার টাকা
×

ফ্রান্সের বাসিন্দা অ্যানা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ২১:৫৭ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ২২:৪৫

ইউরোপে চলমান তাপপ্রবাহ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই চরম আবহাওয়া কেবল মহাদেশটির শীতলীকরণ অবকাঠামোর (কুলিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার) অভাবকেই উন্মোচিত করেনি, বরং নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং মানিব্যাগের ওপরও প্রভাব ফেলছে। নাগরিকদের হঠাৎ এই অপ্রত্যাশিত আর্থিক ব্যয়কে ‘হিট ট্যাক্স’ বা ‘গরমের কর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

পশ্চিম ফ্রান্সের শহর নঁতে-তে বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী অ্যানা ফ্রিল্যান্স অনুবাদক জানান, তিনি মাত্র ৩ দিনে কেবল গরম থেকে বাঁচতে খরচ করেছেন ২৫০ ইউরো; বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৮৭০ টাকা। অনেক ইউরোপীয় শহরের মতো নঁতে-ও নজিরবিহীন গরমের সম্মুখীন হচ্ছে, যেখানে টানা তিন দিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে।

অ্যানা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমি যেখানে থাকি, সেখানে কাজ করা অসম্ভব। ওই গরমে আপনার মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করে না; আর আমার তো মস্তিষ্কটাই দরকার, ওটা দিয়েই আমি কাজ করি।’

নিজের জীবিকা বজায় রাখার জন্য অ্যানা তার হোম অফিস ছেড়ে স্থানীয় একটি হোটেলের ভেতরে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কো-ওয়ার্কিং স্পেস (ভাড়ায় কাজ করার স্থান) ভাড়া নিতে বাধ্য হন। স্থানীয় গণপরিবহনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায়, নিজের বাসা, অস্থায়ী কাজের জায়গা এবং চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য তাকে ট্যাক্সির ওপরও নির্ভর করতে হয়েছে।

অ্যানা বলেন, ‘তিনদিনে গরম থেকে বাঁচতে প্রায় ২৫০ ইউরো ব্যয় করেছি। যদি তাপপ্রবাহ না থাকত, তবে আমাকে এই খরচগুলোর কোনোটিই করতে হতো না।’

আর্থিক চাপের বাইরেও এই তাপপ্রবাহ জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়াচ্ছে—বিশেষ করে অপর্যাপ্ত সুবিধাসম্পন্ন সরকারি স্থাপনাগুলোতে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য।

অ্যানা একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন বলে জানান। এই সপ্তাহে একটি স্থানীয় হাসপাতালে রাত কাটানোর কথা রয়েছে তাঁর। তিনি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (ক্লাইমেট কন্ট্রোল) অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘অপারেটিং থিয়েটারগুলো (অস্ত্রোপচার কক্ষ) ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কোনো এসি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। তারা আপনাকে একটি ফ্যান দিতে পারে; তবে বাইরে যখন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন এটি কোনো কাজেই আসবে না।’

ইউরোপের বেশিরভাগ অংশই রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে পুড়ছে। মহাদেশজুড়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখে পড়েছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন

×