ভেনেজুয়েলা
শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় বেঁচে ফেরার গল্পগুলো যেমন
ধসে যাওয়া ভবনের সামনে কারাকাসের দুই বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলায়। ছবি: এএফপি
এএফপি ও আলজাজিরা
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ১৭:০২
ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি যথাক্রমে মাটির ২২ ও ১০ কিলোমিটার গভীরে। রাজধানী কারাকাসের একটি শপিং মলে তখন শীর্ষ তলায় ছিলেন হেইডি রোমেরো (৪২) নামের এক দোকানি। কম্পন টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিচে নামার জন্য নির্ধারিত সিঁড়ির (ইমার্জেন্সি এক্সিট) দিকে যান।
নিচে নামার সময় রোমেরো দেখেছেন আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার ও হুড়োহুড়ি। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘এটি ছিল অবিশ্বাস্য। কম্পনটি কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল তাও আমি জানি না। আমরা ইমার্জেন্সি এক্সিট দিয়ে কোনোমতে নিচে নেমে আসি।’
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যার দিকে এক মিনিটের মধ্যে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তখন রোমেরোর মতো কারাকাসের আরও বহু ভবন থেকে মানুষ নিচে নেমে আসেন। তবে ৬৯ বছর বয়সী কারমেন গুয়েদেজ নিজের ঘরেই ছিলেন।

গুয়েদেজের বাড়ি কারাকাসের পাহাড়ি অংশে। সেখানকার অধিকাংশ পরিবার মধ্যবিত্ত। যখন ভূমিকম্প হয় তখন তিনি একটি কক্ষে শয্যাশায়ী বোনের পাশে বসে ছিলেন। বলেন, ‘ঝাঁকুনি ক্রমাগত তীব্র হচ্ছিল। আমি দেখলাম জানালাগুলো কাঁপতে শুরু করেছে। এরপর সবকিছু দুলতে লাগল।’ আতঙ্ক নিয়ে গুয়েদেজ ও তাঁর বোন ঘরের মধ্যেই গুটিসুটি মেরে বসে ছিলেন।
ভেনেজুয়েরার সরকারি কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ত্রুহিয়ো, কারাবোবো, মিরান্দা ও লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে অবস্থান করা এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তীব্র কম্পনের পর বেশ কিছু আবাসিক ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। কিছু দেয়ালে ধস ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
‘একে অপরকে জড়িয়ে ধরে দৌড় দিলাম’
কারাকাসের ৩৮ বছর বয়সী প্রকৌশলী হেসুস আলেহান্দ্রো পিনা জানান, ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে তখন তিনি একটি সাততলা ভবনের ওপরের তলায় ছিলেন। আলজাজিরাকে তিনি বলেছেন, ‘কাঁচের জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল, দেয়ালের ছবিগুলো খসে পড়ছিল। এমনকি ভবনের পিলার আর বিমগুলো থেকেও বিকট শব্দ আসছিল।’

একজন প্রকৌশলী হওয়ায় পিনা সহজেই বুঝতে পারেন তীব্র ঝাঁকুনিতে ভবনটির ভেতরে আসলে কী ঘটছে। তিনি বলেন, ‘পিলার ও বিমের এই নড়াচড়া মূলত ভূমিকম্পের শক্তিকে শুষে নিতে সাহায্য করে। কিন্তু এই কম্পন যদি অতিরিক্ত সময় ধরে চলে, তবে তা সহ্য ক্ষমতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায়। আর ঠিক তখনই ভবন ধসে পড়ে।’
কম্পন থামার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার আতঙ্কিত বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। মুখোমুখি হন চারপাশের ধ্বংসযজ্ঞ ও হাহাকারের এক ভয়াবহ দৃশ্যের।
- বিষয় :
- ভেনেজুয়েলা
- ভূমিকম্প
