ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে শোকজ, তদন্ত কমিটি

প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে শোকজ, তদন্ত কমিটি
×

ছবি: সমকাল

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ২১:৩৪

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানকে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেছেন ওই শিক্ষক।

অভিযোগের পর অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হারুনুর রশিদ।

শুক্রবার রাতে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আমিনুর রহমান (ছোয়াত) ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ মো. শাহিদুল আকরাম সোহেলের সই করা পৃথক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

শোকজ নোটিশে বলা হয়, গত ২১ জুন রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানের সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হারুনুর রশিদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ২৬ জুন প্রধান শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করেন। এ ঘটনায় হারুনুর রশিদকে তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

পৃথক অফিস আদেশে বলা হয়, প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির নজরে আসে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ মো. শাহিদুল আকরাম সোহেল বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে এমন যেকোনো ঘটনার বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যাখ্যা নেওয়া এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য শোকজ নোটিশ ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সকালে আক্কেলপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ২১ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হারুনুর রশিদ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে তাকে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করেন।

তিনি দাবি করেন, ওই দিন দুপুরে হারুনুর রশিদ, স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহনেওয়াজ ও আতিয়ার রহমান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মীর মো. আতিকুজ্জামান মুন বিদ্যালয়ে গিয়ে নির্বাচিত অভিভাবক সদস্যদের তালিকা পরিবর্তনের চাপ দেন। এতে আপত্তি জানালে হারুনুর রশিদ জুতা দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন এবং হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি আহত হন এবং চিকিৎসা নেন।

প্রধান শিক্ষক জানান, ঘটনার পরদিন ২২ জুন তিনি আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন তাঁকে বান্দরবানে বদলির ভয় দেখিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক তাঁকে মারধরের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তবে বদলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে হারুনুর রশিদ বলেন, ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে কয়েকজন অভিভাবকের আপত্তির বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা বা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য আনা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহনেওয়াজ ও আতিয়ার রহমানও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, পরিস্থিতি শান্ত করতে তারা বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষক স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করার চেষ্টা করছিলেন। তারা শুধু এর বিরোধিতা করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছেন। যেহেতু অভিযোগটি পুলিশের তদন্তাধীন, তাই এ মুহূর্তে আলাদাভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, অভিযোগের অনুলিপি তিনি পেয়েছেন। তবে এখনো সেটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেননি।

আরও পড়ুন

×