ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ইসরায়েল-লেবাননের সমঝোতা চুক্তি, অংশ নেয়নি হিজবুল্লাহ

ইসরায়েল-লেবাননের সমঝোতা চুক্তি, অংশ নেয়নি হিজবুল্লাহ
×

ওয়াশিংটনে পাঁচ দফা আলোচনার পর লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ১১:১৮ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ | ১২:২১

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে পাঁচ দফা আলোচনার পর লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছে। শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই সমঝোতায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এক লিখিত বিবৃতিতে রুবিও জানান, জাতিসংঘের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দেবে। পাশাপাশি লেবাননের সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেবে।

রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ, সংগঠনটির সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ইসরায়েলি বাহিনীর সীমান্তে ফিরে যাওয়ার একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে 'মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন' নামে একটি পাইলট সমন্বয় কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই সমঝোতা দেশটির সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করছে না; বরং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলেশন ১৭০১ এবং ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নকে এগিয়ে নেবে। তিনি আরও বলেন, লেবাননে অস্ত্র বহনের অধিকার কেবল রাষ্ট্রীয় বাহিনীরই থাকবে।

চুক্তি আলোচনায় হিজবুল্লাহ সরাসরি অংশ না নিলেও রুবিও জানান, সংগঠনটির সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল। বর্তমানে লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনীর তুলনায় বেশি বলে ধারণা করা হয়।

ওয়াশিংটনে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামেদা মোয়ায়েদ আলোচনাকে দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই সমঝোতা লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথে প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়াখেল লেইতার বলেন, ‘ইরান ও হিজবুল্লাহ বাইরে, আর ইসরাইল-লেবানন শান্তির পথ এখন উন্মুক্ত।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান বজায় রাখবে। লিতানি নদীর দক্ষিণ ও উত্তর অংশে দুটি পাইলট জোন গঠন করা হবে। নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী সরে গেলে সেখানে মোতায়েন হবে লেবাননের সেনাবাহিনী। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমিত সক্ষমতার লেবাননের সেনাবাহিনী এত বড় দায়িত্ব পালন এবং প্রয়োজনে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে কতটা প্রস্তুত, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে চলমান লেবানন-ইসরাইল আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির দাবি, কোনো শর্ত ছাড়াই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাশেম বলেন, ‘ইসরায়েলকে কোনো শর্ত ছাড়াই লেবানন ছেড়ে চলে যেতে হবে। লেবাননের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশ্রুতি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার অধিকার কারও নেই।’

ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম 'কান' জানিয়েছে, আলোচনার অন্যতম বিরোধের বিষয় ছিল তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা অ্যান্টি-ট্যাংক লাইন। এপ্রিল মাসে নির্ধারিত এই কাল্পনিক রেখাটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার লেবাননের অভ্যন্তরে বিস্তৃত।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৩০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৭৯ জন আহত হয়েছেন।
 

আরও পড়ুন

×