ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বিয়ের চার মাস আগে বরকে হত্যার অভিযোগ, দুর্ঘটনা বলে চালানোর দাবি

বিয়ের চার মাস আগে বরকে হত্যার অভিযোগ, দুর্ঘটনা বলে চালানোর দাবি
×

কেতন বিশাল আগারওয়াল ও সিয়া। ছবি: সংগৃহীত

এনডিটিভি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ১১:৫২ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ | ১২:২০

১৭ কোটি টাকার প্রাসাদ ভাড়া করা হয়েছিল বিয়ের জন্য। অতিথিদের আনার জন্য প্রস্তুত ছিল প্রাইভেট জেটও। কিন্তু সেই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মামলায়। বিয়ের কয়েক মাস আগেই ভারতের মহারাষ্ট্রের লোহগড় দুর্গের প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পাওয়া যায় হবু বর কেতন বিশাল আগারওয়ালের মরদেহ। পরে তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কেতন ও সিয়ার পরিচয় হয় ২০২৫ সালে ব্যবসায়িক সূত্রে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পারিবারিকভাবে তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। এরপর সিয়া নিয়মিত ইনস্টাগ্রামে তাদের সম্পর্কের নানা মুহূর্ত শেয়ার করতেন। নভেম্বরে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়। প্রায় ১৭ কোটি টাকার একটি প্রাসাদ ভাড়া করা হয় এবং অতিথিদের জন্য প্রাইভেট জেটেরও পরিকল্পনা ছিল। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, এই সময়ের মধ্যেই সিয়ার সঙ্গে চেতন বাবুলাল চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের ধারণা, ওই সম্পর্কের কারণে কেতন ধীরে ধীরে সিয়া ও চেতনের কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ান। তদন্তকারীদের মতে, বিয়ে নিয়ে অনীহা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বন্দ্ব থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ১৪ জুন কেতন ও সিয়া লোহগড় দুর্গে ঘুরতে যান। পুলিশের অভিযোগ, সেদিনই প্রথমবার কেতনকে ধাক্কা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তিনি পাহাড়ি পথ থেকে পড়ে গেলেও প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যাওয়ার আগেই একটি ঝোপ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাটি আড়াল করতে সিয়া চিৎকার করে 'সাপ, সাপ' বলে অন্যদের দৃষ্টি ভিন্নদিকে সরানোর চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করারও চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরও তাদের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যায়নি। কয়েক দিন পর আবারও একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা হয়। এরই মধ্যে বালি সফরেরও পরিকল্পনা ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, কেতন ছাড়া অন্য সবার পাসপোর্ট রয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কেতনের পাসপোর্ট পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। ফলে সফরটি বাতিল হয়ে যায়। পুলিশ বলছে, এ ঘটনার পর কেতন কিছুটা সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন, তবে পুরো বিষয়টি তখনও তার অজানা ছিল।

পুলিশের দাবি, ১৮ জুন কেতন ও সিয়া আবারও লোহগড় দুর্গে যান। তদন্তে বলা হয়েছে, চেতন বাবুলাল চৌধুরীও ঘটনাস্থলের আশপাশে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্গের একটি নির্জন স্থানে কেতনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া হয়। তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটিকে প্রথমে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সিয়া দাবি করেছিলেন, ট্রেকিংয়ের সময় কেতন পিছলে খাদে পড়ে যান। সেই ভিত্তিতে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তবে তদন্ত এগোতে থাকলে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নতুন তথ্য পান। তদন্তে সিয়া ও চেতনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে সিয়া ও চেতন বাবুলাল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

কেতন ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করলেও তদন্তের অগ্রগতির পর তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর সিয়ার আচরণও তাদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

বাগদান, গোপন সম্পর্ক, ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, পাসপোর্ট রহস্য এবং শেষ পর্যন্ত পাহাড়ি খাদে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে মামলাটি ভারতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মামলাটি এখনও বিচারাধীন এবং ঘটনার চূড়ান্ত সত্য আদালতের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

আরও পড়ুন

×