বার্ধক্যরোধী ইনজেকশনের জন্য পাকিস্তান থেকে বিদেশে মানব গর্ভফুল পাচার, তদন্ত শুরু
প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে গঠিত একটি অস্থায়ী অঙ্গ, যা ভ্রূণের জীবনধারণে সহায়তা করে। ছবি: বিবিসি
বিবিসি
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৩
পাকিস্তানে মানব প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব প্লাসেন্টা থেকে বার্ধক্যরোধী ইনজেকশন তৈরির উপাদান প্রস্তুত করা হতো।
এফআইএর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০ কেজি সন্দেহভাজন মানব প্লাসেন্টা উদ্ধার করা হয়। বাড়িটি প্লাসেন্টা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার অবৈধ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া বুধবার ইসলামাবাদ বিমানবন্দর থেকে ভিয়েতনামগামী ১০০ কেজি মানবদেহের টিস্যুর একটি চালান জব্দ করা হয়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সেটিও মানব প্লাসেন্টা ছিল।
পাকিস্তানের 'হিউম্যান অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট অথরিটি'র কর্মকর্তা হিনা কানওয়ালের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রতি প্লাসেন্টা প্রায় ৮০০ পাকিস্তানি রুপিতে কিনতেন। পরে সেগুলো শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠানো হতো। এফআইএর দাবি, এসব প্লাসেন্টা থেকে তৈরি একটি বার্ধক্যরোধী ইনজেকশনের বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ পাকিস্তানি রুপি।
তদন্ত সংস্থার ধারণা, চক্রটির কার্যক্রম শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; লাহোর, পেশোয়ার ও রাওয়ালপিন্ডিসহ দেশের বিভিন্ন শহরেও তাদের নেটওয়ার্ক ছিল। এ ঘটনায় হাসপাতাল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দাবি করেছিলেন, তারা ভেড়ার প্লাসেন্টা সংগ্রহ করছিলেন। তবে পরে তারা স্বীকার করেন, সেগুলো মানব প্লাসেন্টা ছিল বলে জানিয়েছে এফআইএ।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সাদাফ তারিক বলেন, প্লাসেন্টা অত্যন্ত সংক্রামক চিকিৎসা-বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। পাকিস্তানসহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে প্রসবের পর এটি চিকিৎসা-বর্জ্য হিসেবে নির্ধারিত নিয়মে ধ্বংস করা হয়। এ কাজ কেবল সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানই করতে পারে এবং হাসপাতালগুলোকে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত নথি সংরক্ষণ করতে হয়।
পাকিস্তানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মানব অঙ্গ বা অঙ্গ-সংক্রান্ত টিস্যু সংগ্রহ ও পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
এফআইএর এক কর্মকর্তা বিবিসি উর্দুকে বলেন, অবৈধ মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়ে এর আগেও অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মানব প্লাসেন্টা পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান এবারই প্রথম পাওয়া গেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
