ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

ইরানের পারমাণবিক বোমা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষার দাবি নেতানিয়াহুর

ইরানের পারমাণবিক বোমা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষার দাবি নেতানিয়াহুর
×

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৫১

ইরান এরই মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে, যা দিয়ে ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনাও ছিল তেহরানের। ইরানের সে হামলা থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশ রক্ষা করেছেন বলে দাবি করেছেন। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ফোর্টিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। তবে নেতানিয়াহুর এই দাবিকে জনগণকে ভয় দেখানোর কৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো গোয়েন্দা সংস্থাই এর আগে ইরানের পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলার মতো তথ্য দেয়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের হুমকি এবং নিজের ভূমিকা বড় করে দেখাতে গিয়ে নেতানিয়াহু আবেগতাড়িত হয়ে এমন মন্তব্য করেছেন।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ও যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য গাডি আইজেনকোট বলেন, ‘আমি সব গোয়েন্দা তথ্য খুব ভালো করে জানি। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পায়নি। নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জনগণকে ভয় দেখাতে মিথ্যা কথা বলছেন।’ ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও একই কথা বলেছেন। তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তোলেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত পরিস্থিতি
ইরান সবসময়ই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুই শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজের জন্য। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) তাদের পরমাণু কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেয় ইরান। তখন আইএইএ জানিয়েছে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।

হরমুজ প্রণালি পারমাণবিক বোমার মতোই শক্তিশালী: রাশিয়া
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ সহযোগী ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি পারমাণবিক বোমার মতোই শক্তিশালী। শুধু তাই নয়, ইরানের হাতে থার্মোনিউক্লিয়ার বোমার সমকক্ষ আরও একটি বড় বিকল্প রয়েছে; আর সেটি হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি।

মেদভেদেভ বলেছেন, বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে। তারা যদি পথগুলো বন্ধ করে দেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

আরও পড়ুন

×