ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

চিরনিদ্রায় আলি খামেনি

চিরনিদ্রায় আলি খামেনি
×

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ বৃহস্পতিবার তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হয়। শহরের রাস্তায় নামে মানুষের ঢল- এএফপি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৬ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫২

ইরান বৃহস্পতিবার নিজেদের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সমাহিত করেছে। তাঁকে দেশটির সবচেয়ে পবিত্র বলে খ্যাত ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হয়। বাবার দাফনের সময়েও উপস্থিত ছিলেন না আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে ও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই শুরু থেকে আড়ালে রাখা হয়েছে তাঁকে।  

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, সপ্তাহব্যাপী শোক আয়োজনের পর উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে দাফন করা হয় তাঁকে। এমন একটি সময় দাফন সম্পন্ন হলো, যখন নতুন করে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার জনসাধারণে পরিপূর্ণ মাশহাদের সড়ক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় খামেনির মরদেহ। উপস্থিত অনেককে এ সময় দেখা যায় দেশের পতাকা হাতে। কারও কারও হাতে আবার ছিল প্রয়াত আলি খামেনির ছবি ও নানাবিধ স্লোগানসংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড।

ইরান ও ইরাক দুই দেশেই আয়োজিত হয়েছিল আলি খামেনির শোক আয়োজন। তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে। আলি খামেনি শুধু ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানই নন, শিয়া মুসলিমদেরও নেতা ছিলেন। 

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারান আলি খামেনি। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে তাঁর ৩৭ বছরের শাসনের। ১৯৮৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের এক দশক পর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। ইরানের সামরিক বাহিনীর বর্তমান কাঠামো ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিপূর্ণ অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কৃতিত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। বিশ্লেষকদের মতে, আলি খামেনির এসব পদক্ষেপের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালিয়ে সর্বোচ্চ নেতা, জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতৃবৃন্দসহ অনেককে হত্যা করলেও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে ইরান। 

ইরানের জন্য আলি খামেনির দাফন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হলো। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো হামলার জবাব দেওয়া থেকে পিছু হটছে না। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইরানের অবস্থান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

 আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ প্ল্যাকার্ড হাতে
এদিকে গতকাল ইরানের মাশহাদে খামেনির দাফনের জন্য অপেক্ষারত জনসাধারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তারা এ সময় ট্রাম্পকে হত্যা করা হোক– এমন আহ্বান জানান।

এক নারীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সর্বোচ্চ নেতার রক্তের শপথ নিয়ে বলছি, ট্রাম্প তোমাকে আমরা হত্যা করব।’ এ সময় ওই নারীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ট্রাম্পকে হত্যা করো। অনেককে এ সময় ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়। রয়টার্সের খবর বলছে, জুলাইয়ের প্রখর তাপের মধ্যে অপেক্ষারত জনসাধারণের জন্য পাইপ দিয়ে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করেছিল কর্তৃপক্ষ।

এর আগে সপ্তাহজুড়ে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আলি খামেনি ও তাঁর পরিবারের নিহত চার সদস্যের কফিন তেহরান, কোম, নাজাফ ও কারবালা দিয়ে শোক মিছিল করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্থানেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উপস্থিতরা। তারা লাল পতাকাও বহন করেছেন, যার মধ্য দিয়ে মূলত সরকারকে প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। 

এদিকে পুরো শোক আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন না মোজতবা খামেনি। তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা। অনেকেরই প্রত্যাশা ছিল, তাঁকে বাবার শোক আয়োজনে দেখা যাবে। বহু ইরানি এমন প্রত্যাশা নিয়ে হাজিরও হয়েছিলেন। তবে তিনি অনুপস্থিতই ছিলেন। এখনও অনেক ইরানির কাছেই বিষয়টি রহস্য।

গত ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবা খামেনির চেহারায় বিকৃতি এসেছে এবং দুই পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে মোজতবা খামেনি সামনে আসেননি বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালাতে পারে এমন শঙ্কায় তাঁর উপস্থিতি সীমিত করার চেষ্টা করছে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা সেবাগুলো।

মোজতবা খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে আসেননি। তাঁর কোনো ছবি বা ভিডিও বা কণ্ঠস্বর প্রকাশ করা হয়নি। তেহরানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো বলছেন, তিনি ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন। তবে এখনও সামনে আসার মতো অবস্থায় আসেননি। 

আরও পড়ুন

×