ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইরানে ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমেছে

ইরানে ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের
×

ছবি: বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৪:৩৩

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দ্বিতীয় রাতেও পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পরে কুয়েত, জর্ডান ও ইরাকেও নতুন করে হামলা চালানোর খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

এদিকে সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সামুদ্রিক খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করতেই ইরানের উপকূলীয় এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরবরাহ অবকাঠামোসহ ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। আগের রাতের হামলার ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানানো হয়।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পরে কুয়েত, জর্ডান ও ইরাকে আরও হামলার খবরও প্রকাশ করা হয়।

তবে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক বন্দরে বিস্ফোরণের পর স্থানীয় কর্মকর্তারা একটি নৌঘাঁটিতে ‘শত্রুর হামলার’ কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো নতুন হামলা চালায়নি।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ ও ৯ জুলাই পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চাবাহার বন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, যাচাই করা ভিডিওতে ওই স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও আবু মুসা দ্বীপেও বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছে।

সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও কমে গেছে। আন্তর্জাতিক ট্যাংকার মালিকদের সংগঠন ইন্টারট্যাংকোর মেরিন পরিচালক ফিল বেলচার বিবিসিকে বলেন, দক্ষিণ দিকের রুট দিয়ে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন তা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। এক সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন প্রায় ৭০টি জাহাজ চলাচল করছিল।

এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন উপলক্ষে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ডও দেখা গেছে।

এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার পর তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওই সমঝোতা এখন আর কার্যকর নয়। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের জবাব ইরান ‘কাজের মাধ্যমে’ দেবে। 

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×