সম্পত্তির বিরোধ মেটানোর কথা বলে ডেকে এনে ধর্ষণের অভিযোগ, কারাগারে এসআই
ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০২:২৯
সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ মেটানোর আশ্বাস দিয়ে এক গৃহবধূকে চট্টগ্রাম নগরে ডেকে এনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত এসআই শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধে আইনগত সহায়তার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এসআই শহিদুল। পরে বিরোধ নিষ্পত্তি ও স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়ার কথা বলে গত ৭ জুলাই তাকে বান্দরবান থেকে চট্টগ্রামে আসতে বলেন। রাতে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে এসআই শহিদুল ইসলামের পরিচয় হয়। সে সময় তিনি রামদাসহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও সম্পত্তির মূল দলিল নিরাপদে রাখার কথা বলে নেন। পরে দলিল ফেরত দিলেও স্বর্ণালংকার ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৭ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে এসআই শহিদুল ভুক্তভোগীকে জানান, তিনি চট্টগ্রামে আছেন এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ ও স্বর্ণালংকারের বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন। তার কথায় বিশ্বাস করে ওই নারী রাতে চট্টগ্রামে যান। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে আলোচনার পর রাতে ঘুমিয়ে পড়লে রাত একটার দিকে এসআই শহিদুল জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
তবে থানার একটি সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের পরই অভিযুক্ত এসআইকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে পাঠানো হয়।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, তাদের থানায় কর্মরত এসআই শহিদুল ইসলাম চট্টগ্রামে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্তের ছোট ভাই রাকিব বলেন, ভাইয়ের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু জানায়নি।