ভারী বর্ষণ ও ঢল
পাহাড় ধসে আরও সাত মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ
রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি এলাকায় ধসে পড়ে পাহাড়। গতকাল সকালে তোলা - সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৬ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
টানা ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানের লামায় গতকাল বৃহস্পতিবার পাহাড় ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। আগের দিন উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড় ধসে শিশু শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটল এসব ঘটনা।
কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কয়েক হাজার মানুষ উঠেছেন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। বেশ কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। নেই মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক। তলিয়ে যাওয়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ। কয়েক দিন ধরে পানির নিচে থাকা কয়েক হাজার হেক্টর জমির আমন ধান, সবজি ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এদিকে সাত জেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিন জেলায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
লামায় পাহাড় ধসে ৫ জনের মৃত্যু
বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিশনপাড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
গত বুধবার রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে একটি পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (২৮) ও কুলসুমা বেগম (২২) ঘটনাস্থলে মারা যান। ভোর ৪টার দিকে একই এলাকার পৃথক জায়গায় পাহাড় ধসে মো. ইউনুস (২৮), স্ত্রী রানু বেগম (২২) ও তাদের চার বছরের ছেলে সোলায়মানের মৃত্যু হয়।
আজিজনগর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন বলেন, প্রথম ঘটনায় পাহাড় ধসে বেড়ার ঘর মাটিচাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মারা যান। ভোরের দিকে পাহাড় ধসে একতলা পাকা বাড়ির দেয়াল ধসে ও মাটিচাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়।
চকরিয়ায় ঝরল দুই শিশুর প্রাণ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড় ধসে রুমি আক্তার (১৫) ও মোহাম্মদ তৌসিফ (১০) নামে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তারা চাচাতো ভাইবোন ছিল। গতকাল ভোরে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেনিয়া কাটা পাহাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রুমি আক্তার মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে। সে বরইতলী দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আবদুল মজিদের ছেলে মোহাম্মদ তৌসিফ স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, এসব মৃত্যু মর্মান্তিক।
প্রশাসন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মাত্র চার দিনে কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ১৭ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই প্রাণ ঝরেছে ১৩ জনের। তাদের অধিকাংশই শিশু।
উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাঁচ মরদেহ উদ্ধার
গত বুধবার পাহাড় ধসের ঘটনায় উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ সংখ্যা আট বলে জানানো হয়েছিল। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান এক বিবৃতিতে আটজনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করেন।
তবে রাতে ৫ নম্বর ক্যাম্প ইনচার্জ (উপসচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন এবং উখিয়ার ১৪ এপিবিএন পৃথকভাবে নিশ্চিত করে, পাহাড় ধসের ওই ঘটনায় পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর মারা গেছে।
বান্দরবানে দেড় হাজার মানুষ আশ্রয়শিবিরে
দুর্গতদের জন্য সাত উপজেলা ও দুই পৌরসভায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খিচুড়ি, শুকনা খাবার, মোমবাতি ও বিশুদ্ধ পানি দেওয়া হচ্ছে।
কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। নদীর দুই তীরের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বান্দরবান ও লামা পৌরসভার নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানিতে ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে কয়েকশ হেক্টর সবজি ক্ষেত।
উপজেলাগুলোতে গত বুধবার রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল ফোন সংযোগও নেই। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার স্থানীয় ও পৌরসভার কিছু এলাকার বাসিন্দারা।
সড়কে পানি ওঠায় বান্দরবান থেকে রাঙামাটি এবং জেলা শহরের স্টেশন থেকে রুমা ও থানচির উদ্দেশে গতকাল কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।
কক্সবাজারে পানিবন্দি লাখো মানুষ
কক্সবাজারের ১০ উপজেলায় গতকালও বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। রামু ও কক্সবাজার, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
চকরিয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গতকাল সকাল ৯টার দিকে চিরিংগা সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চিরিংগা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৮ মিটার। সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ৬ দশমিক ২৯ মিটার।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, মাতামুহুরীর নদীর কোনাখালী পুরুইত্যাখালী পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকেছে। পৌরসভার ভাঙারমুখ, আমাইন্যারচর, নামার চিরিংগা ও মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালীর পুরুইত্যাখালী, মরংঘোনা এলাকায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
খাগড়াছড়ির পানি নামছে ধীরে ধীরে
গতকাল দুপুর থেকে বৃষ্টিবিরতির ফলে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কিন্তু জেলা শহরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা রয়েছে। জেলার দীঘিনালা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে দীঘিনালাতেই। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়ক এবং দীঘিনালা-লঙগদু সড়কের দীঘিনালা অংশের বেশ কিছু জায়গা এখনও পানির নিচে রয়েছে। এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে রয়েছে। চেঙ্গী নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
দীঘিনালা উপজেলায় মাইনী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় গত দুই দিন ধরে বহু গ্রাম পানির নিচে রয়েছে। এ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কবাখালী ইউনিয়ন ও মেরুং ইউনিয়ন।
কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বলেছেন, কবাখালী ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের হাজারের অধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কবাখালী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়ক চলে গেছে। তাই সাজেক-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটিতে চার হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে
রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া সড়কসহ অন্তত ১২৭টি স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার ৩০টি গ্রাম। এ পর্ষন্ত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ। পানিতে ভেসে গিয়ে দুই ব্যক্তির মুত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যানবাহন চলা বন্ধ ছিল। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন মাটি সরিয়ে ফেলে। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া সড়কের পাহাড় ধসে পড়ায় চলাচল বন্ধ ছিল। বিকেল চারদিকে মাটির সরানোর যানবাহর চলাচল স্বাভাবিক হয়। দীঘিনালা-মারিশ্যা সড়কের তিন কিলোমিটার পর্যন্ত ফাটল দেখা দেওয়ায় ওই রুটে যানবাহল বন্ধ রয়েছে। রাজস্থলী উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ির অরুণোদয় পয়েন্টের সীমান্ত সড়কে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া রাঙামাটি শহরের এডিসি হিলে, পুরাতন লাইন, নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার-সংলগ্ন পাশের গলি, শিমুলতলী, কাউখালী উপজেলাসহ ১২৮টি ছোট বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সম্পত্তি ও ঘরবাড়ি ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউই হতাহত হয়নি। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, ১০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
সাতকানিয়ায় পানিতে নিখোঁজ ১
চট্টগ্রামে সাতকানিয়ায় গতকাল ভোরে সাঙ্গু নদীতে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে আবদুল আলম (৩৬) নামে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়ন এলাকার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।
কালিয়াইশ ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আহমেদ বলেন, আবদুল আলম একজন রিকশাচালক। তিনি এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে নৌকায় করে সাঙ্গু নদী থেকে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে পানিতে পড়ে যান। এখনও তাঁর খোঁজ মেলেনি। তিনি এ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাইঙ্গাপাড়া এলাকা বাসিন্দা।
নওগাঁ শহর জলমগ্ন
টানা ২০ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে নওগাঁ শহর। শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
মৌলভীবাজারে নদনদীর পানি বাড়ছে
মৌলভীবাজার জেলার সবক’টি নদনদীর পানি বেড়েই চলেছে। তবে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ২৮-৩০ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতের ধাক্কায় মনু তীরের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর স্থানে গতকাল বিকেলে ভেঙে গেছে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ। এদিকে দুদিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর সীমান্তবর্তী মখাবিল এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সুনামগঞ্জে ৫০ গ্রাম প্লাবিত
টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের নিচু এলাকার অনেক সড়ক ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনায় পানি উঠেছে। জেলা শহরের পাশ দিয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। ষোলঘর পয়েন্টে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ৭ দশমিক ২৪ মিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। মাত্র ৫৬ সেন্টিমিটার পানি বাড়লেই পানি বিপৎসীমায় পৌঁছাবে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ার খলার ১০০ ফুট ও আনোয়ারপুর সড়কের ৫০ ফুট সড়কে দুই ফুট পানি উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙনে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
হবিগঞ্জে নদনদীর পানি বৃদ্ধি
হবিগঞ্জের নদনদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। জেলার খোয়াই নদীর চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ৯৯ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলায় দুর্ভোগ
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। পাউবোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কালনী নদীর পানির লেভেল ২.৪৭ মিটার রেকর্ড করা হযে়ছে, যা প্রাক-বর্ষা বিপৎসীমার (৫.৩৫ মিটার) ২৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জে ডুবে গেছে রাস্তা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, পুকুর-ডোবা, নদী-নালা, খালবিল, খেলার মাঠ ও নিচু এলাকার বসতবাড়ি। উজানের ঢলে তিস্তার চরের হাজারও পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা।
বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু
নওগাঁর রাণীনগর ও মান্দা উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এসব ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের মোহাম্মদ খয়বর আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (৫৫) ও মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা মৃধাপাড়া গ্রামের তহির সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার (৫০)।
এদিকে, নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বজ্রপাতে ইসমাইল হোসেন (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে বাড়ির পাশের বিলে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় এই ঘটনা ঘটে। ইসমাইল মুন্সি বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বজ্রপাতে রিয়াদ (১১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রিয়াদ ওই গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে এবং বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা]
- বিষয় :
- বৃষ্টি