যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য
সোমবার ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার ছবিটি প্রকাশ করেছে সেন্টকম। ছবি: এএফপি
এএফপি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১৭:১৪ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৪৮
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সোমবার সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় কেঁপে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টাকে ভেস্তে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার রাতে নতুন দফার অভিযানে বেশ কয়েকটি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান, নৌজাহাজ ও ড্রোন একাধিক স্থানকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
সোমবার দুপুরের দিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অজ্ঞাত উৎস থেকে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শব্দগুলো হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী বন্দর আব্বাস থেকে এসেছে।
জবাব দিয়েছে ইরানও। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। এই দাবির মধ্যেই সোমবার বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। দেশটি তেহরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনীও আকাশপথে হামলা প্রতিহতের দাবি করেছে। আর জর্ডানের সেনাবাহিনী ইরানের চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে।
পাল্টাপাল্টি এই হামলা অব্যাহত থাকার মুখে তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয় তবে লড়াই বন্ধের কোনো ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ মানা হবে না। গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের দিকে ইঙ্গিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে চুক্তিটি এখন সংকটের মুখে পড়েছে।’
বাঘাই বলেন, যতবারই অপরপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তেহরানও ততবার অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। তা সত্ত্বেও উত্তেজনা কমাতে কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।