আজরাক ঘাঁটিতে ড্রোনের পর মিসাইল হামলা ইরানের, ৮ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি জর্ডানের
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৪ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১২:৪৩
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের জেরে এবার জর্ডানের আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ‘খাইবার-শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) দিয়ে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী পাল্টা দাবি করে জানিয়েছে, তারা রাজ্যটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া আটটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র পথিমধ্যেই ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করেছে এবং এর ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এর আগে ইরানের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছিল, তাদের ‘সায়েকেহ’ অভিযানের নবম ধাপের অংশ হিসেবে জর্ডানের আজরাক বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। ড্রোন ব্যবহার করে চালানো ওই হামলায় ঘাঁটির মার্কিন যোগাযোগ ব্যবস্থা (কমিউনিকেশনস সিস্টেমস), একটি স্থায়ী রাডার সাইট এবং জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইরানের বামপুর ব্যারাকে মার্কিন হামলায় ৭ সেনা নিহত হওয়ার জবাবে এই পদক্ষেপ বলে জানায় তেহরান।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রা'র জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে থাকতেই ধ্বংস করা হয়েছে, ফলে কোনো হতাহত বা বস্তুগত ক্ষতি হয়নি। রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পসের দলগুলো বিভিন্ন স্থানে পড়া ধ্বংসাবশেষ সুরক্ষিত করেছে। সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ স্তরের প্রস্তুতি নিয়ে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
ইরানের সেনাবাহিনী ড্রোন হামলার কথা জানালেও, আইআরজিসি এবার আজরাক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, ‘খাইবার-শেকান’ মিসাইল দিয়ে আমেরিকান ফাইটার জেট স্টোরেজ র্যাম্প এবং পশ্চিম এশিয়ায় নতুন আমেরিকান কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এই হামলা ছিল মূলত মার্কিন হামলার প্রতিশোধ। মার্চে মিনাবের একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় ১৬৮ জন শিশু নিহত হওয়া এবং অপর মার্কিন হামলার জেরে আহভাজে ক্যান্সারে আক্রান্ত ১২১ শিশুকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হওয়ার বদলা হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
জর্ডানের জনগণকে তাদের ভূমি ব্যবহার করে ‘শিশুদের বিরুদ্ধে এমন অপরাধ’ করতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
- বিষয় :
- ইরান
- যুক্তরাষ্ট্র
- জর্ডান
- ক্ষেপণাস্ত্র হামলা