কেন আরেকটি ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ ঝুঁকি নিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩১
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় শান্তিতে নোবেল পুরস্কার চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। বর্তমানে তাঁকেই দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে খুব হালকাভাবে ব্যবহার করতে। তিনি আটকে গেছেন অন্তহীন যুদ্ধের চক্রে।
অন্তহীন যুদ্ধ– কথাটি মূলত আফগানিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রথম সামনে এসেছিল। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিকভাবে প্রচুর অর্থ ও লোকবল বিনিয়োগ করেও কোনো ফসল তুলে আনতে পারেনি। দিনশেষে দীর্ঘ সময় পর কোনো উল্লেখযোগ্য ফলাফল ছাড়াই সেখানে তাদের পিছু হটতে হয়েছিল।
গত কয়েক দশকের ঘটনাবলির দিকে তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে সমালোচনার মতো অনেক কিছু রয়েছে। তার পরও তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার চেষ্টা করেছে এবং একেবারে শেষ পদক্ষেপ হিসেবে সেনাবাহিনী ব্যবহার করেছে। অথচ সে নজিরই উল্টে গেছে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে। ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য তিনি চাপ তৈরি করছেন সামরিক বাহিনী দিয়ে। প্রতিদিনই হুমকি দিচ্ছেন সহিংসতার, আরেকটি দেশের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন অবলীলায়।
শুধু ইরানে নয়, ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পকে একই কাজ করতে দেখা গিয়েছিল। তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে আসেন। এতে আখেরে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ হয়েছে। তারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ পেয়েছে এবং নানা ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধার পথ খুলেছে। তবে যে পথে এটি করা হয়েছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে বিশ্বে। কারণ, পছন্দ না হলে রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে আনার নজির ছিল না এর আগে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির যে চুক্তিটি করেছিল, তা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। ফলে সেটি টেকেনি। এতে ইরানকে এমন একটি বিষয় থেকে ঠেকানো হয়েছে, যা তাদের কাছে নেই বলেই শুরু থেকে দাবি করে আসছে তারা। আর তা হলো, পারমাণবিক অস্ত্র। এর বিপরীতে তাদের নানা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নানাবিধ আলোচনা থাকলেও এটি কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে– তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে দিনশেষে এটি নিয়ে সংঘাত শুরু হয়েছে। ইরানে আগেরবারের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কিছুই অর্জন করতে পারেনি। বরং ইরানের শাসকশ্রেণির অবস্থান দেশের ভেতরে আরও পোক্ত হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ একটি ব্যতিক্রমী চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য। তিনি এই যুদ্ধের বিষয়ে তেমন কিছুই বলেননি দেশের জনসাধারণকে। কেন এটি প্রয়োজন, কী কারণে তিনি এসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন– তা খোলাসা করেননি।
দেখে মনে হয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইন্ধনে তিনি হঠাৎ করেই যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। কোনো কিছু নিয়েই যেন তাঁর কোনো পরিকল্পনা ছিল না– শাসক শ্রেণির পতন না হলে কী হবে, হরমুজ বন্ধ হয়ে গেলে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে বা যুদ্ধের অবসান কীভাবে হবে– সবকিছুই যেন অস্পষ্ট।
এদিকে, ইরান এই সংঘাতে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দাঁড়িয়েছে, যেভাবে টিকে গেছে, সেটিও মার্কিন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে পুরো বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চক্রে আটকে পড়েছে, যেখান থেকে সে এখন আর বের হতে পারছে না। উল্টো ক্রমাগত এই চক্র তার জন্য নতুন নতুন সমস্যা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কথা ও পদক্ষেপের গুরুত্ব হালকা হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীরাও বিষয়টির দিকে নজর রাখছে, মিত্ররাও হতাশ হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ইরান যুদ্ধ
- যুদ্ধ