ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে বেসরকারি মহাকাশ অভিযানে সফল ভারত

বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে বেসরকারি মহাকাশ অভিযানে সফল ভারত
×

উৎক্ষেপণের পর আকাশে ছুটছে ‘বিক্রম-১’। ছবি:রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১৫:২৪

ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত কক্ষপথগামী রকেট বিক্রম-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস। এর মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোগে কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠাতে সক্ষম বিশ্বের তৃতীয় দেশ হলো ভারত।

শনিবার অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ‘মিশন আগমন’ নামে রকেটটির প্রথম কক্ষপথ মিশন পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৫ মিনিট পর এটি ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে সফলভাবে পেলোড স্থাপন করে।

রকেটটির উৎক্ষেপণ নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরে তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মিশন আগমন’ পুরোপুরি সফল হয়েছে। এটি একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন। ভবিষ্যতে নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের আগে এ ধরনের আরও কয়েকটি পরীক্ষা চালানো হবে।

২২ মিটার দীর্ঘ বিক্রম-১ রকেটটি নিম্ন কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি ওজনের পেলোড বহনে সক্ষম। এতে তিনটি কঠিন জ্বালানিচালিত ধাপ এবং একটি তরল জ্বালানিচালিত অরবিটাল অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল রয়েছে। এ মডিউলে প্রথমবারের মতো ভারতে তৈরি ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) প্রিন্টেড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযানে ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি প্রদর্শনী উপগ্রহ এবং মহাকাশে বিভিন্ন পরীক্ষামূলক যন্ত্র বহন করা হয়েছে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের অন্যতম অগ্রণী প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালে তাদের বিক্রম-এস রকেট ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট হিসেবে উপকক্ষপথে সফল উড্ডয়ন করে।

ভারত ২০২০ সালে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য মহাকাশ খাত উন্মুক্ত করে। এরপর থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো রকেট, উপগ্রহ এবং উৎক্ষেপণসেবা উন্নয়নের সুযোগ পায়। এর আগে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত দেশটির সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।

ভারত সরকার ২০৩৩ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে দেশের অংশীদারত্ব বর্তমান প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ লক্ষ্য অর্জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে দেশটির সরকার।

আরও পড়ুন

×