ফকল্যান্ডস-বিতর্কে আর্জেন্টিনার পক্ষে হোয়াইট হাউস
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা মাঠে ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ছবি: পিএ মিডিয়া
বিবিসি
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১৬:০১
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবিসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা চলছে। তবে খেলোয়াড়দের মতপ্রকাশের অধিকারকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস।
বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা মাঠে ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফিফার রাজনৈতিক বার্তাবিষয়ক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এ ঘটনায় তদন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সপ্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যেকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দেরও নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর কথাও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট এ ঘটনায় ফিফার তদন্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট।’
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকারও ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, খেলাধুলাকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মঞ্চ বানানো উচিত নয়। এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আর্জেন্টিনা। দেশটি দ্বীপপুঞ্জটির নাম মালভিনাস বলে উল্লেখ করে। তবে দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের একটি স্বশাসিত বিদেশি অঞ্চল। ২০১৩ সালের গণভোটে ফকল্যান্ডের ৯৯ শতাংশের বেশি ভোটার যুক্তরাজ্যের অধীনেই থাকার পক্ষে মত দেন।
ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না। মালভিনাস আর্জেন্টিনার।’
ফকল্যান্ড ইস্যুতে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল। ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা, তিনজন দ্বীপবাসী এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন।