৬৪ বছরের রেকর্ড ভাঙার সুযোগ আর্জেন্টিনার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩৪
রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য ঐতিহাসিক। কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়েই শুধু নামবেন না লিওনেল মেসি-এনজো ফার্নান্দেজরা, বরং ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা একটি রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যে নামবে। গত ৬৪ বছরের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি আর্জেন্টিনার।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে ফাইনালে ওঠার পরই অনেক রেকর্ড সামনে চলে এসেছে মেসির আর্জেন্টিনার। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে পরপর দু’বার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার বিষয়টি। টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তিটি আছে শুধু ইতালি এবং ব্রাজিলের। ১৯৫৮ সালে সুইডেনে এবং ১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের টানা দুটি ট্রফি জয়ের পর আর কোনো দলই পারেনি এমন কীর্তি করতে। ইতিহাসে ইতালি প্রথম এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। ১৯৩৪ সালে আয়োজক হিসেবে এবং পরে ১৯৩৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল। আর ব্রাজিল ছিল এই কীর্তি গড়া দ্বিতীয় এবং শেষ দল।
ব্রাজিলের পর বেশ কয়েকটি দল টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। এই আর্জেন্টিনাই ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপ জেতার পর ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল। জার্মানির কাছে হেরে যায় তারা। ব্রাজিলের সামনেও একই কীর্তিটা আরেকবার গড়ার সুযোগ এসেছিল। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ সালেও ফাইনালে উঠেছিল সেলেসাওরা। স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে হেরে শিরোপা জেতা হয়নি পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সম্প্রতি কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের সামনেও টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতার হাতছানি ছিল। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ জেতা ফরাসিরা ২০২২ আসরেও ফাইনাল খেলেছিল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় ফাইনালে পেনাল্টি শুট আউটে হেরেছিল ফ্রান্স।
এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা তাদের পরবর্তী টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। ১৯৩৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালি ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়েছিল। একইভাবে, ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে শিরোপা জেতা জার্মানি ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে ব্যর্থ হয়েছিল। এখন লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন দল বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখতে চাইবে। তাদের মূল লক্ষ্য হবে স্পেনকে পরাজিত করা; যারা নিজেরাও তাদের আন্তর্জাতিক রেকর্ডে আরেকটি সোনালি তারা যোগ করার আশা নিয়ে আসছে।